Chhondo – Caption Idea https://captionideas.com My WordPress Blog Sun, 18 Oct 2026 16:28:58 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=7.1.3 শৈশব নিয়ে কবিতা, ছন্দ ও স্মৃতি: হারানো দিনের মিষ্টি গল্প https://captionideas.com/shoishob-niye-kobita-chhondo-o-smriti-harano-diner-misti-golpo/ https://captionideas.com/shoishob-niye-kobita-chhondo-o-smriti-harano-diner-misti-golpo/#respond Sun, 18 Oct 2026 16:07:59 +0000 https://captionideas.com/?p=1139 শৈশব মানেই দুরন্তপনা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর মায়ের আদরে কাটানো একরাশ মধুর স্মৃতি। সময়ের সঙ্গে সেই দিনগুলো হারিয়ে গেলেও মনের কোণে রয়ে যায় সোনালি অতীতের গল্প। শৈশবের সেই অনুভূতি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পড়তে পারেন [শৈশব নিয়ে উক্তি ও বাণী] এবং [শৈশব নিয়ে উক্তি ক্যাপশন স্ট্যাটাস ও কবিতা]। আজকের আয়োজনে থাকছে শৈশব নিয়ে সুন্দর কবিতা, ছন্দ ও স্মৃতিময় কথা।

শৈশব নিয়ে কবিতা

ভোরের আলো জানলা ছুঁয়ে ডাকত যখন আমায়,
শিশিরভেজা ঘাসের বুকে স্বপ্ন ছড়িয়ে যেত হাওয়ায়।
পাখির গানে দিন শুরু হতো, মনটা থাকত রঙিন,
কোথায় হারালে ছোট্টবেলার সেই সোনালি দিন?

মাটির পথে ধুলো উড়িয়ে ছুটতাম দুই ভাই,
গাছের ছায়ায় সুখের খোঁজে ক্লান্তি ছিল নাই।
পকেটজুড়ে কাঁচের গুলি, চোখে হাজার স্বপ্ন,
ছোট্ট সেই পৃথিবী ছিল ভালোবাসায় সম্পন্ন।

মায়ের আঁচল মাথায় দিয়ে ঘুমিয়ে পড়া রাতে,
পৃথিবীর সব সুখ খুঁজেছি তাঁর স্নেহের ছায়াতে।
আজকে কত দূরেই থাকি, মনে পড়ে সেই ঘর,
শৈশব যেন মায়ের বুকে লেখা মধুর প্রহর।

বিকেল হলেই মাঠের কোণে জমত বন্ধু মেলা,
কে জিতবে আর কে হারবে, চলত কত খেলা।
রাগের কথা ভুলে যেতাম সূর্য ডোবার আগে,
সেই বন্ধুত্ব আজও আমার স্মৃতির ভেতর জাগে।

বৃষ্টির জলে কাগজ নৌকা ভাসত আপন মনে,
ঢেউয়ের সঙ্গে গল্প হতো অজানা কোনো ক্ষণে।
ছোট্ট নৌকা দূরে গেলে ছুটতাম তার পিছে,
শৈশব আমার আজও যেন স্মৃতির নদীর মিছে।

ছোট্ট ব্যাগ আর নতুন খাতা, স্কুলে যাওয়ার পালা,
বন্ধুর মুখে হাসি দেখে মুছে যেত সব জ্বালা।
ঘণ্টা শেষে মাঠের দিকে ছুটতাম সারি সারি,
স্কুলের স্মৃতি হৃদয়জুড়ে আজও বড় ভারী।

নীল আকাশে ঘুড়ি উড়ে মেঘের কাছে যায়,
ছোট্ট হাতে সুতো ধরে মনও পাখা মেলায়।
ঘুড়ির সাথে উড়ত যেন ভবিষ্যতের আশা,
শৈশব ছিল স্বপ্ন বোনার নির্মল ভালোবাসা।

বাঁশবাগানে বাতাস বাজায় পাতার মধুর বাঁশি,
পুকুরপাড়ে বসে আমরা গল্প করতাম হাসি।
ধানক্ষেতে রোদের ছোঁয়া, দূরে গরুর পাল,
গ্রামের শৈশব মনে পড়ে সকাল আর বিকাল।

অল্পতেই আনন্দ ছিল, অল্পতেই সুখ,
সামান্য এক খেলনা পেলে হাসত দুটো মুখ।
বড় পৃথিবী চাইনি তখন, ছোট্ট ঘরই ধন,
শৈশব ছিল সরল সুখের সবচেয়ে আপন।

রঙিন পেন্সিল হাতে নিয়ে আঁকতাম নীল আকাশ,
কল্পনাতে ফুটিয়ে তুলতাম ফুলের মিষ্টি সুবাস।
বাঁকা রেখায় সূর্য হাসত, নদী বইত ধীরে,
ছোট্ট খাতার স্বপ্নগুলো আজও আছে ঘিরে।

মেঘের ডাকে বৃষ্টি নামত, উঠোন হতো ভেজা,
বই সরিয়ে খেলতে যেতাম, মন থাকত না সোজা।
মায়ের বকুনি শুনেও মুখে হাসি লেগে রয়,
শৈশবের সেই দুষ্টুমিতে কত আনন্দময়!

রাতের বেলা দাদুর পাশে বসতাম গোল হয়ে,
রাজকুমারের গল্প শুনতাম বিস্ময় চোখে লয়ে।
গল্প শেষে ঘুমের দেশে হারিয়ে যেতাম আমি,
সেই রাতগুলো স্মৃতির মাঝে আজও বড় দামি।

শিউলি ঝরা ভোরের পথে কুড়াতাম সাদা ফুল,
শিশির মাখা ঘাসের গন্ধ মন করত আকুল।
সূর্য উঠত ধীরে ধীরে, পাখি গাইত গান,
শৈশব ছিল প্রকৃতিরই বুকের আপন প্রাণ।

ছোট্ট ঘরে ভাইবোনেতে কত যে ঝগড়া হতো,
একটু পরে হাসির জোয়ারে অভিমানও ক্ষত।
একই থালায় খাবার খেয়ে কাটত সুখের ক্ষণ,
শৈশবের সেই বাঁধন আজও জড়িয়ে রাখে মন।

পুকুরজলে ঢিল ছুড়ে দিতাম ঢেউয়ের পর ঢেউ,
কে যে বেশি গোল বানাবে, ভাবতাম না কেউ।
জলের বুকে রোদের হাসি, বাতাসে গান ভাসে,
ছোট্টবেলার পুকুরপাড় আজও মনে আসে।

ছুটির সকালে ঘুম ভাঙত না মায়ের ডাকের আগে,
খেলার মাঠের অদৃশ্য টান হৃদয়জুড়ে জাগে।
দুপুর গড়ায়, বিকেল নামে, খেলা থামে শেষে,
সেই ছুটিগুলো রয়ে গেছে স্মৃতির পাতার দেশে।

মাটির ঘরে পুতুল বসে, পাতার থালা সাজে,
ছোট্ট হাতে সংসার গড়ি আপন মনের মাঝে।
খেলনা দিয়ে স্বপ্ন বুনি, হাসি ভরে প্রাণ,
শৈশব ছিল কল্পনারই মায়াবী এক গান।

ছোট্ট চোখে বড় হওয়ার কত যে স্বপ্ন আঁকা,
দূর আকাশের তারার মাঝে নিজের নামটা লেখা।
পথের বাধা বুঝিনি তখন, সাহস ছিল সাথি,
শৈশব আমায় স্বপ্ন দেখার শিক্ষা দিয়েছে খাঁটি।

যে উঠোনে খেলতাম আমি বিকেলবেলার রোদে,
সময় আজ সেখানে নতুন গল্প লিখে বয়ে।
দেয়াল বদলেছে, গাছও গেছে, বদলে গেছে ঘর,
তবু স্মৃতির উঠোনজুড়ে শৈশব নিরন্তর।

জীবনের পথে যতই বাড়ুক দায়িত্বেরই ভার,
শৈশব তুমি হৃদয়জুড়ে আপন বারবার।
ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় সেই হারানো ক্ষণ,
তবু তোমার স্মৃতিতেই জেগে থাকে আমার মন।

দুরন্ত শৈশব নিয়ে কবিতা

গাছে চড়ে আম পাড়ি, মাঠে দিই যে দৌড়,
দুষ্টুমিতে দিন কাটে, থামে না কোনো ভোর।
মায়ের বকুনি শুনে আবার হাসি মুখে যাই,
দুরন্ত সেই ছোট্টবেলায় ক্লান্তি চিনতাম নাই।

ভাঙা ব্যাট আর পুরোনো বল, মাঠের মাঝে খেলা,
জয়ের আশায় বন্ধুরা সব কাটিয়ে দিত বেলা।
হারলে শুধু পরের দিনের নতুন শপথ নিতাম,
দুরন্ত শৈশবের মাঠেই সাহস খুঁজে পেতাম।

ঝড়ের পরে গাছের নিচে আম কুড়ানোর ধুম,
কে যে কত পাবে শেষে, চলত সারাক্ষণ।
মাটির গন্ধ, পাকা আমের মিষ্টি মাখা হাসি,
সেই দুষ্টুমি মনে হলে আজও ভালোবাসি।

একজন চোখ বন্ধ করে, বাকিরা সব লুকায়,
খুঁজে পাওয়ার আনন্দেতে পাড়া মাথায় ওঠায়।
সন্ধ্যা নামলে খেলা থামে, বাড়ি ফেরার তাড়া,
দুরন্ত দিনের গল্পগুলো স্মৃতিতে দেয় সাড়া।

গাছের ডালে বসে বসে দেখতাম পাখির বাসা,
ছোট্ট মনে উঁকি দিত কত অজানা আশা।
মাটির ডাকে নেমে এসে আবার ছুটতাম,
দুরন্ত শৈশবের ডানায় নতুন দিন খুঁজতাম।

মেঘের ডাকে ছুটে যেতাম বৃষ্টিভেজা মাঠে,
কাদা মেখে হাসতাম সবাই বন্ধুর হাতের সাথে।
ভেজা জামা, কাঁপা শরীর, তবু মুখে হাসি,
দুরন্ত দিনের স্মৃতিগুলো আজও বড় খাঁটি।

আকাশজুড়ে ঘুড়ির মেলা, সুতো হাতে দৌড়,
কেটে গেলে ছুটতাম সবাই, উঠত হইচই জোর।
ঘুড়ি পেলে বিজয়ী মন, না পেলেও হাসি,
দুরন্ত সেই দিনগুলো আজও মনে ভাসে।

কঞ্চির ঘোড়ায় চড়ে আমি রাজ্য জয় করতে যাই,
বন্ধুরা সব সৈন্য হয়ে পেছন পেছন ধাই।
কল্পনারই যুদ্ধ শেষে বিজয়ী হই আমি,
দুরন্ত শৈশবের রাজ্য ছিল সবার চেয়ে দামি।

ঘণ্টা বাজে, বই গুছিয়ে ছুটে যাই যে বাইরে,
বন্ধুরা সব অপেক্ষাতে স্কুলের গেটের ধারে।
পড়ার কথা পরে হবে, আগে মাঠের খেলা,
দুরন্ত শৈশব কেড়ে নিত বিকেলবেলার বেলা।

পুরোনো সেই সাইকেল নিয়ে পাড়ার পথে যাই,
প্যাডেল ঘুরে ধুলো উড়ে, আনন্দের সীমা নাই।
পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়াই, আবার চলার তাড়া,
দুরন্ত শৈশব শিখিয়েছে হাল না ছাড়ার ধারা।

পুকুরপাড়ে বসে আমরা ঢিল ছুড়তাম জলে,
ঢেউয়ের বুকে গোলের পর গোল উঠত ছন্দতালে।
কে যে আগে বড় ঢেউ তোলে, চলত প্রতিযোগিতা,
দুরন্ত দিনের সেই খেলাতেই আনন্দের কবিতা।

মাটির চুলায় পাতার হাঁড়ি, রান্না কত রকম,
পুতুলগুলো অতিথি হয়ে বসত সারাক্ষণ।
মিথ্যে ভোজের সত্যি সুখে হাসতাম প্রাণ খুলে,
দুরন্ত শৈশব আজও আছে সেই খেলাঘর জুড়ে।

দুষ্টুমি করে লুকিয়ে থাকি বিছানারই তলে,
মায়ের ডাকে মুখটা দেখি ভয়ে ভয়ে ধীরে।
বকুনি শেষে আদর পেয়ে সব অভিমান যেত,
দুরন্ত শৈশব ভালোবাসার পাঠ শিখিয়ে দিত।

ফুলের বাগান পেরিয়ে আমি ছুটতাম তার পিছে,
রঙিন ডানার মায়া যেন ডাকত কাছে কাছে।
ধরতে গিয়ে থেমে যেতাম ফুলের পাশে দাঁড়িয়ে,
দুরন্ত মন প্রকৃতিকে শিখত ভালোবেসে।

কাগজ দিয়ে নৌকা গড়ে খালের জলে ভাসাই,
ঢেউয়ের সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে বন্ধুদেরও হাসাই।
নৌকা ডুবলে নতুন করে বানাই আবার ভাই,
দুরন্ত শৈশব হার মানাকে চিনত না যে তাই।

“খেলতে যাবি?” বন্ধুর ডাকে ছুটতাম ঘর ছেড়ে,
মাঠের পথে গল্প জমত পায়ের ধুলো মেখে।
সন্ধ্যা এসে ফিরিয়ে নিত ঘরের আপন কোণে,
দুরন্ত দিনের হাসি বাজে আজও স্মৃতির সনে।

গাছের ছায়ায় গুপ্তধনের খোঁজে নামত দল,
শুকনো পাতার নিচে খুঁজতাম মণিমুক্তার ছল।
কিছুই পেতাম না তবু অভিযান শেষ নয়,
দুরন্ত শৈশব কল্পনাতে অজানাকে জয়।

মাটির বুকে দাগ কেটে যে খেলতাম গুলি,
জেতার পরে বুক ফুলিয়ে বলতাম কত বুলি।
হারলে আবার খেলতে বসা, রাগ থাকত না আর,
দুরন্ত দিনের বন্ধুত্ব ছিল জয়ের চেয়েও ভার।

সূর্য ডোবে, আকাশজুড়ে লাল রঙেরই মেলা,
তবু মাঠে শেষ হবে না বন্ধুর দলের খেলা।
মায়ের ডাকে ফিরতে গিয়ে তাকাতাম বারবার,
দুরন্ত শৈশব রেখে গেছে মায়ার উপহার।

যে দৌড়ে পাড়া কাঁপাতাম, থেমেছে সে পা,
সময় এখন অন্য পথে, বদলেছে চলা।
তবু মনের ভেতর এখনো সেই দস্যি ছেলেটি,
দুরন্ত শৈশব আমার জীবনের সেরা স্মৃতিটি।

হারানো শৈশব নিয়ে কবিতা

যদি আবার ফিরে পেতাম ছোট্টবেলার দিন,
ছুটে যেতাম খেলার মাঠে, ভুলে সব রঙিন ঋণ।
মায়ের ডাকে ফিরতাম ঘরে, হাসতাম প্রাণ খুলে,
হারানো শৈশব রাখতাম বুকে যত্ন করে তুলে।

যে উঠোনে দৌড়াতাম, আজ সেখানে দেয়াল,
পুরোনো সেই গাছের ছায়া হারিয়েছে কাল।
চোখের সামনে বদলে গেল চেনা পৃথিবী,
হারানো শৈশব স্মৃতির পাতায় আজও ছবি।

যে বন্ধুরা বিকেল হলে ডাকত নাম ধরে,
আজকে তারা দূর শহরে, ব্যস্ত জীবনের তরে।
দেখা হলে গল্প জমে পুরোনো দিনের কথা,
হারানো শৈশব বন্ধুত্বের অমলিন গাথা।

স্কুলের সেই কাঠের বেঞ্চে কত স্বপ্ন আঁকা,
খাতার ভাঁজে লুকিয়ে ছিল কত গল্প লেখা।
ঘণ্টা বাজলে ছুটতাম সবাই আনন্দভরা মনে,
হারানো শৈশব আজও বাজে স্মৃতির গোপন কোণে।

ভাঙা গাড়ি, পুরোনো বল বাক্সের মাঝে ঘুমায়,
ধুলো মাখা সেই খেলনাটি কত স্মৃতি জাগায়।
হাতে নিলে মনে পড়ে ছোট্টবেলার কাল,
হারানো শৈশব ফিরে আসে স্মৃতির আড়াল।

মায়ের কোলে মাথা রেখে শুনতাম ঘুমের গান,
বাইরে যত ঝড়ই থাকুক শান্ত থাকত প্রাণ।
আজকে কত দূরেই থাকি, সেই আশ্রয় চাই,
হারানো শৈশবের মতো শান্তি কোথাও নাই।

বৃষ্টির জলে নৌকা ভাসে স্মৃতির নদীর তীরে,
ছোট্টবেলার হাসির শব্দ ফিরে আসে ধীরে।
জানলা ধরে বৃষ্টি দেখি, মনটা উদাস হয়,
হারানো শৈশব হৃদয়জুড়ে নীরবে কথা কয়।

ধানক্ষেতের আল ধরে যে ছুটতাম দুজন,
সবুজ মাঠে মিশে থাকত হাসিখুশি মন।
আজও গ্রামের পথের ছবি চোখে ভাসে তাই,
হারানো সেই শৈশবকে ফিরে পেতে চাই।

ছোট্টবেলার বিকেলগুলো ফিরবে না আর ফিরে,
সময় গেছে দূর আকাশে মেঘের ভেলা চিরে।
তবু যখন চোখ বুজি, দেখি সেই মাঠ,
হারানো শৈশবের স্মৃতিই আমার মনের পাঠ।

পুরোনো সেই স্কুলঘর আজ স্মৃতির পাতায় আঁকা,
বন্ধুর পাশে বসে থাকার দিনগুলো সব ঢাকা।
বইয়ের গন্ধ, ঘণ্টার শব্দ, শিক্ষকেরই বাণী,
হারানো শৈশব আজও আমার হৃদয়জুড়ে জানি।

মাটির ঘরে পুতুল খেলা, পাতার থালায় ভাত,
কল্পনাতে কাটত আমার কত রঙিন রাত।
আজকে যত খেলনা দেখি, তেমন সুখ আর নাই,
হারানো শৈশবের সরলতা কোথায় খুঁজে পাই?

সন্ধ্যা হলে মায়ের ডাকে ফিরতাম ঘরে আমি,
গরম ভাতের গন্ধ ছিল পৃথিবীর চেয়ে দামি।
এখন কত খাবার জোটে, তবু সেই স্বাদ নাই,
হারানো দিনের ভালোবাসা মনে খুঁজে পাই।

পুরোনো সেই কাঁচের গুলি পড়ে আছে বাক্সে,
হাত বাড়ালেই স্মৃতি জাগে আপন মনের পাশে।
জয়ের আনন্দ, হারের রাগ, বন্ধুর মুখের হাসি,
হারানো শৈশব আজও তাই হৃদয় দিয়ে ভালোবাসি।

নদীর ধারে বসে থাকা ছোট্ট দিনের ছবি,
নৌকার সাথে ভেসে যেত কল্পনারই কবি।
জীবন এখন ব্যস্ততায় ছুটছে অবিরাম,
হারানো শৈশব ডাকছে আমায় ভোর-সন্ধ্যার নাম।

যে গাছতলায় বসতাম সব বন্ধু মিলে,
কত গল্প জমত সেখানে হাসির ঢেউ তুলে।
গাছটি আছে কি না জানি, তবু মনে হয়,
হারানো সেই বন্ধুত্ব আর ফিরে পাওয়া নয়।

পুজোর মেলা, ঈদের খুশি, নতুন জামার ঘ্রাণ,
ছোট্ট মনে আনন্দ ছিল অফুরন্ত প্রাণ।
এখন উৎসব আসে যায়, সময় কাটে দ্রুত,
হারানো শৈশবের সুখই ছিল সত্যি অমূল্য।

আকাশজুড়ে ঘুড়ি উড়ে, মনটা যেত উড়ে,
কত স্বপ্ন লিখতাম তখন মেঘের বুকে ঘুরে।
বড় হওয়ার পথে এসে বুঝেছি অবশেষে,
হারানো শৈশবই সুখের সবচেয়ে কাছের দেশে।

পুরোনো অ্যালবামের ছবিতে ছোট্ট মুখের হাসি,
নিজের চোখেই চিনতে গিয়ে স্মৃতির কাছে আসি।
সময় আমায় বদলে দিল, বদলেছে সংসার,
হারানো শৈশব রয়ে গেল হৃদয়ে বারবার।

ছোট্টবেলার ভুলগুলোও ছিল কত মধুর,
রাগের পরে মিল হয়ে যেত, দূর হতো সব দূর।
এখন কথা জমে থাকে, সময় থাকে কম,
হারানো শৈশব শিখিয়েছে সরলতার মর্ম।

ফিরে আসবে না জানি সেই সোনালি সকাল,
তবু স্মৃতির জানলা খুলে দেখি বারবার।
জীবনের সব প্রাপ্তির মাঝে একটি সত্যি রয়,
হারানো শৈশব হৃদয়জুড়ে চিরকাল বেঁচে রয়।

শৈশব নিয়ে ছন্দ

শৈশব আমার সোনার দিন,
আনন্দে রঙিন প্রতিটি ক্ষণ।
খেলায় কাটত সকাল-বেলা,
স্মৃতির পাতায় মধুর মেলা।

মাঠের ধুলো গায়ে মেখে,
ছুটতাম সবাই হাসি রেখে।
দিন ফুরালে ফিরতাম ঘরে,
সেই স্মৃতি আজও মন ভরে।

মায়ের কোলে ঘুমের দেশে,
দুঃখ পালাত অনেক দূরে।
মায়ের আদর, মায়ের হাসি,
শৈশব তাই এত ভালোবাসি।

কাগজ নৌকা জলের বুকে,
স্বপ্ন ভাসে ছোট্ট সুখে।
ঢেউয়ের তালে নৌকা যায়,
শৈশব আমায় পিছু টানায়।

ঘুড়ি উড়ে নীল আকাশে,
মনটা আমার তারই পাশে।
সুতো হাতে ছুটতাম ভাই,
সেই দিনগুলো ফিরে চাই।

স্কুলের ঘণ্টা বাজত যখন,
খুশিতে ভরে উঠত মন।
ছুটি হলে মাঠের পথে,
হাসি ফুটত সবার ঠোঁটে।

বন্ধুর সাথে কাঁচের গুলি,
জয়ের পরে কতই বুলি।
হারলে আবার খেলতে বসি,
শৈশব তাই এত ভালোবাসি।

বৃষ্টি নামে টিনের চালে,
খেলার নেশা মন মাতালে।
কাদা মেখে হাসির ঢেউ,
ভুলতে পারি না তো কেউ।

গ্রামের পথে সবুজ ধান,
পাখির ডাকে ভরে প্রাণ।
মাটির গন্ধ হৃদয় ছোঁয়,
শৈশব স্মৃতি হারায় না কভু।

পুতুল নিয়ে ঘর সাজাই,
কল্পনারই দেশে যাই।
পাতার থালা, মাটির ভাত,
সুখের ছিল সেই প্রভাত।

দাদুর মুখে গল্প শুনি,
ঘুমের দেশে চোখটা বুনি।
রাজকুমারের রঙিন দেশে,
শৈশব কাটে ভালোবেসে।

বিকেল হলেই বন্ধুর ডাক,
মনটা আমার ছুটতে থাক।
সন্ধ্যা এলে খেলা শেষ,
স্মৃতির মাঝে সেই পরিবেশ।

শিউলি ঝরে ভোরের বেলা,
ফুল কুড়ানোর আনন্দ-মেলা।
শিশিরভেজা ঘাসের গায়ে,
শৈশব আজও মনে চায়।

ভাইবোনেতে খুনসুটি,
একটু রাগে মুখটি ফুটি।
একটু পরেই হাসির গান,
সেই বন্ধন অমূল্য ধন।

আম কুড়ানোর মজার দিন,
রোদে ভরা মাঠ রঙিন।
গাছের নিচে বন্ধু মেলা,
শৈশব ছিল সুখের খেলা।

ছুটির দিনে দেরি ঘুম,
জানলা দিয়ে রোদের চুম।
মায়ের ডাকে উঠি শেষে,
আনন্দ থাকত ঘরটি জুড়ে।

মাটির পথে সাইকেল চালাই,
ধুলো উড়িয়ে গান গাই।
পড়ে গেলেও উঠি আবার,
শৈশব ছিল সাহসের ভাণ্ডার।

ছোট্ট খাতায় ছবি আঁকি,
নীল আকাশে স্বপ্ন রাখি।
রঙিন পেন্সিল হাতে নিয়ে,
সুখের দিন যায় যে বয়ে।

পুকুরপাড়ে বসে থাকি,
ঢেউয়ের মাঝে স্বপ্ন আঁকি।
রোদের ঝিলিক জলের গায়,
শৈশব স্মৃতি ফিরে চায়।

দিন পেরিয়ে বড় হলাম,
কত আপন পথ হারালাম।
শৈশব আমার মনের ধন,
স্মৃতির মাঝে অমলিন।

শৈশবের স্মৃতি নিয়ে কবিতা

পুরোনো বাড়ির উঠোনটাতে স্মৃতি জমে আছে,
ছোট্টবেলার হাসির শব্দ বাতাস হয়ে নাচে।
সময় যত দূরে নেয়, মন তত ফিরে যায়,
শৈশবের সেই মায়ার টান ভুলতে কি আর পারা যায়?

স্কুলের পথে বন্ধু নিয়ে হাঁটতাম সারি সারি,
বইয়ের চেয়ে গল্পগুলো ছিল বেশি ভারী।
আজকে সেই পথ একা দেখি, বদলে গেছে দৃশ্য,
স্মৃতির পাতায় শৈশব আমার সবচেয়ে অদ্বিতীয়।

মায়ের হাতে ভাতের থালা, পাশে বসার সুখ,
অল্পতেই ভরে উঠত হাসিতে দুটো মুখ।
আজকে ব্যস্ত জীবনের কত আয়োজন,
সেই সাধারণ মুহূর্তই সবচেয়ে দামি এখন।

পুকুরপাড়ে বিকেলবেলা বাতাস দিত দোলা,
বন্ধুদের সঙ্গে বসে কত গল্প হতো বলা।
রোদ ডুবে গেলে বাড়ি ফেরার তাড়া পড়ত মনে,
সেই বিকেল আজও বাজে স্মৃতির গোপন কোণে।

ঈদের দিনে নতুন জামা, আনন্দ ভরা প্রাণ,
সবার সাথে ঘুরে বেড়ানো, হাসি আর গান।
ছোট্ট হাতে সালাম করে মিষ্টি পাওয়ার সুখ,
শৈশবের সেই উৎসবগুলো আজও ভোলার নয়।

বৃষ্টির দিনে জানলা ধরে মেঘের দিকে চাওয়া,
কাগজ নৌকা বানিয়ে জলে স্বপ্নগুলো ভাসানো।
জলের সাথে নৌকা গেলে দৌড়ে যাওয়া পিছে,
শৈশব যেন মনের ভেতর আজও বসে আছে।

দাদুর গল্প, নানুর আদর, ঘুমপাড়ানি গান,
ছোট্ট ঘরে জড়িয়ে থাকত আপন সবার প্রাণ।
সময় আজকে দূর করেছে সেই চেনা পরিবেশ,
স্মৃতির মাঝে তাদের স্নেহ আজও অবিশ্রাম।

মাঠের ধারে ফুটবল নিয়ে কাটত বিকেলবেলা,
জয়-পরাজয় ভুলে গিয়ে চলত নতুন খেলা।
বন্ধুর হাসি, ধুলোর গন্ধ, সূর্য ডোবার রং,
শৈশবের সেই স্মৃতিগুলো হৃদয়ে তোলে ঢং।

পুরোনো বাক্স খুলে দেখি কাঁচের গুলি কয়,
ছোট্টবেলার কত ঘটনা চোখের সামনে রয়।
হাতে নিয়ে মনে পড়ে বন্ধুদের সেই দল,
স্মৃতির ভেতর বেঁচে আছে শৈশব অবিকল।

গ্রামের পথে গরুর গাড়ি, ধানক্ষেতের হাওয়া,
পাখির ডাকে ভোরের বেলা নতুন করে পাওয়া।
শহরজীবন যতই দিক ব্যস্ততারই ঘের,
শৈশবের সেই গ্রামের ছবি টানে বারবার ফের।

স্কুলের মাঠে প্রার্থনার সেই সকালের সারি,
বন্ধুর সাথে গল্প করা, বাড়ি ফেরার তাড়ি।
কত নাম আর কত মুখ আজ স্মৃতির মাঝে রয়,
শৈশবের সেই সোনালি সময় ফিরে আর না হয়।

শিউলি ফুলের সাদা গন্ধ শরতেরই ভোরে,
কুড়িয়ে নিতাম ফুলগুলো সব আঁচল ভরে।
প্রকৃতির সেই ছোট্ট সুখে ভরে উঠত প্রাণ,
শৈশবের সেই সকাল আমার স্মৃতির মিষ্টি গান।

মাটির ঘরে খেলনা নিয়ে সাজাতাম যে ঘর,
কল্পনাতে কত যে হতো সুখের আনাগোনা।
আজকে সেই খেলাঘর নেই, নেই সেই অবসর,
স্মৃতির মাঝে তারই ছবি জাগায় মন ভর।

বিকেল হলে জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম,
বন্ধুরা সব ডাকবে কখন, সেই আশায় থাকতাম।
ডাক শুনলেই দৌড়ে যেতাম, ভুলতাম সব কাজ,
শৈশবের সেই অপেক্ষা আজও মনে বাজে।

ছোট্টবেলার প্রথম বই আর নতুন পেনসিল,
লিখতে গিয়ে ভুল করলে মন হতো অস্থির।
শেখার পথে কত আনন্দ, কত নতুন জ্ঞান,
শৈশব আমায় উপহার দেয় শেখার অভিমান।

ভাইবোন মিলে ছাদে বসে গুনতাম তারা,
চাঁদের বুকে কল্পনারা দিত যে ডানা মেলা।
রাত গভীরে ঘুমিয়ে পড়া মায়ের পাশে এসে,
সেই স্মৃতিগুলো আজও থাকে হৃদয়জুড়ে মিশে।

পাড়ার মেলা, নাগরদোলা, বাঁশির সুরের টান,
ছোট্ট হাতে খেলনা নিয়ে ফিরতাম সন্ধ্যাবেলা।
আজও মেলার আলো দেখলে মনে পড়ে যায়,
শৈশবের সেই আনন্দগুলো ফিরে ফিরে চায়।

যে বন্ধুর সাথে ঝগড়া করে কাটত সারাদিন,
পরের সকালেই আবার হতো বন্ধুত্ব রঙিন।
বড় হয়ে বুঝেছি আজ সেই সরলতার মান,
শৈশবের বন্ধুত্বই ছিল জীবনের সম্মান।

অ্যালবামে সেই ছোট্ট ছবি, চোখে দুষ্টু হাসি,
ছবির দিকে তাকিয়ে আজ নিজেকেই খুঁজি।
কত বদল, কত পথ আর কত নতুন নাম,
শৈশবের স্মৃতি হৃদয়জুড়ে অমলিন অবিরাম।

জীবন যত দূরে নিক, যতই বদলাক কাল,
শৈশব আমার হৃদয়জুড়ে থাকবে চিরকাল।
হারানো দিনের মধুর স্মৃতি অমূল্য এক ধন,
সেই স্মৃতিতেই খুঁজে পাই আমার আপন মন।

শৈশব নিয়ে কিছু কথা

শৈশব মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যেখানে সামান্য আনন্দও অনেক বড় সুখ হয়ে ধরা দেয়। একটি নতুন খেলনা, বন্ধুর সঙ্গে বিকেলের খেলা কিংবা মায়ের হাতে খাওয়া—এসব ছোট ছোট মুহূর্তই একদিন অমূল্য স্মৃতি হয়ে ওঠে।

সময়ের সঙ্গে মানুষ বড় হয়, দায়িত্ব বাড়ে, জীবনের ব্যস্ততাও বাড়তে থাকে। কিন্তু শৈশবের সরলতা ও নির্মল আনন্দ মনের গভীরে থেকে যায়। পুরোনো স্কুল, গ্রামের পথ, বৃষ্টির দিনে কাগজের নৌকা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো বিকেল মনে পড়লে অজান্তেই মুখে হাসি ফুটে ওঠে।

শৈশবের সবচেয়ে সুন্দর দিক হলো, তখন সুখ খুঁজতে অনেক কিছুর প্রয়োজন হতো না। অল্পতেই মন ভরে যেত, ছোট্ট একটি ঘটনাও হয়ে উঠত সারাদিনের আনন্দ। তাই শৈশব শুধু অতীতের স্মৃতি নয়, এটি জীবনের এমন এক অনুভূতি, যা বড় হয়েও আমাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকে।

শেষ কথা

শৈশবের দিনগুলো সময়ের সঙ্গে পেছনে চলে যায়, কিন্তু সেই দিনগুলোর স্মৃতি কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায় না। বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা, মায়ের আদর, স্কুলের আনন্দ আর গ্রামের মেঠোপথ আজও আমাদের মনে মধুর অনুভূতি জাগায়। জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও পুরোনো দিনের কথা মনে করলে মন ফিরে যায় সেই নির্ভার সময়ে। শৈশবের স্মৃতিগুলো আমাদের জীবনের অমূল্য সম্পদ, যা কখনো পুরোনো হয় না। তোমার শৈশবের সবচেয়ে মধুর স্মৃতি কোনটি? কমেন্টে জানাতে পারো।

]]>
https://captionideas.com/shoishob-niye-kobita-chhondo-o-smriti-harano-diner-misti-golpo/feed/ 0