মাকে নিয়ে কবিতা: শব্দের চাদরে মোড়া জননীর মুখ

মাকে নিয়ে লিখতে বসলে শব্দগুলো কেমন যেন ছোট হয়ে যায়। কারণ মা শুধু একটা সম্পর্ক নন, মা মানে শৈশবের উঠোন, মাথায় হাত রাখা শান্তি আর না বলা হাজার গল্প। কখনো মায়ের হাসি, কখনো অভিমান, আবার কখনো মাকে হারানোর শূন্যতা—সবকিছুই কবিতার পাতায় আলাদা রং ছড়ায়। তাই এখানে থাকছে মাকে নিয়ে নানা অনুভূতির কবিতা। সঙ্গে যারা মনের কথাটা ছোট করে বলতে চান, তাদের জন্য পড়তে পারেন মাকে নিয়ে ক্যাপশন। হয়তো কোনো একটি কবিতার লাইনে হঠাৎ নিজের মায়ের মুখটাই দেখতে পাবেন।

মা দিবসে মাকে নিয়ে কবিতা

মা দিবস এলেই মনে পড়ে,
মায়ের হাসি সবার চেয়ে বড়।
পৃথিবী যত দূরেই যাই,
মায়ের কাছে মনটা ছোট।

মাকে দেওয়ার মতো কী-ই বা আছে,
দুটো ফুল আর ভালোবাসা।
মা শুধু হেসে বলেন,
“তুই ভালো থাকিস”—এই তো আশা।

মায়ের আঁচল ছুঁয়ে দেখলে,
ক্লান্ত দিনও শান্ত হয়।
পৃথিবী যত কঠিন হোক,
মায়ের কোলে ভয়টা ক্ষয়।

মা দিবসে ফুল কিনে আনি,
মা হাসেন চুপচাপ।
ফুল শুকিয়ে গেলেও মায়ের
মায়া শুকায় না একটুও।

মায়ের হাতে ভাতের গন্ধ,
ছোটবেলার দুপুর যেন।
আজও ক্ষুধা লাগলে মনে হয়,
“মা, একটু ভাত দাও না কেন?”

মায়ের মুখের একটুখানি হাসি,
ঘরের বাতি জ্বালায়।
দুঃখ এসে দরজায় দাঁড়ালে,
মা তাকে ফিরিয়ে দেয়।

মা দিবসের বড় উপহার,
মায়ের পাশে বসা।
পৃথিবী জয় করার চেয়ে
মায়ের মন জয়ই ভরসা।

মা কখনো দাম চাননি,
চাননি কোনো উপহার।
শুধু চেয়েছেন সন্তানটা
মানুষ হোক বারবার।

মায়ের চোখে তাকালে দেখি,
আমার ছোটবেলার দিন।
এত বছর পেরিয়েও মা,
সেই আগের মতোই ঋণ।

মায়ের বকুনিও মিষ্টি লাগে,
রাগের ভেতর মায়া।
অন্য কেউ বললে কষ্ট,
মা বললে লাগে ছায়া।

মা দিবসে মায়ের হাতে
রাখলাম দুটি হাত।
মা বললেন, “খেয়েছিস তো?”
এই প্রশ্নেই দিনটা মাত।

মায়ের রান্না সাদামাটা,
তবু স্বাদে ঘর।
বাইরে যত খাবার খাই,
মায়ের ভাতই পরম।

মায়ের কাছে বড় হওয়া
আসলে কখন হলো?
বয়স বাড়ল, বুঝলাম শুধু
মায়ের বয়স হলো।

মাকে নিয়ে কবিতা লিখি,
শব্দ আসে কম।
মায়ের মতো বিশাল মানুষ
শব্দে ধরা কঠিনতম।

মায়ের হাসি দেখার জন্য
কত কিছুই করি।
নিজের দুঃখ লুকিয়ে মা
আমার হাসি গড়েন জুড়ি।

মা দিবসে বলব শুধু,
মা তুমি পাশে থেকো।
পৃথিবী যদি উল্টেও যায়,
আমার হাতটা রেখো।

মায়ের শাড়ির গন্ধে যেন
ঘুমিয়ে থাকে ঘর।
সেই গন্ধটা হারিয়ে গেলে
মন হয় বড় পর।

মা আছেন বলেই বুঝি
ঘর মানে শুধু ঘর নয়।
মায়ের পায়ের শব্দ শুনলেই
মনটা নিজের হয়ে যায়।

মা দিবসে ছবি তুলি,
পাশে বসে মা।
ছবির চেয়ে সুন্দর লাগে
মায়ের মুখের মায়া।

মায়ের কাছে ফিরতে গেলে
পথ লাগে না আর।
দরজা খুলে মা বললেই,
“এসেছিস?”—শেষ অন্ধকার।

মায়ের মুখের ক্লান্ত হাসি
অনেক কথা কয়।
সন্তান যেন ভালো থাকে,
এই তো তার জয়।

মা দিবসের ফুলের চেয়ে
মায়ের হাতটা দামি।
সেই হাতে মাথা রাখলেই
দুঃখ ভুলে যাই আমি।

মা কখনো নিজের কথা
সহজে বলেন না।
আমাদের ছোট সুখের কাছে
নিজের সুখই গোনেন না।

মায়ের জন্য বড় কিছু
করতে পারিনি আজ।
পাশে বসে বললাম শুধু,
“মা, তুমি আমার সাজ।”

মা থাকলে বাড়ির কোণে
শান্তি বসে থাকে।
মায়ের ডাকটা শুনলেই মন
নিজের ঠিকানা আঁকে।

মা দিবসে মায়ের জন্য
লিখলাম ছোট গান।
মায়ের মায়া ছাড়া বুঝি
অসম্পূর্ণ প্রাণ।

পৃথিবীর সব সম্পর্ক
একদিন দূরে যায়।
মায়ের ভালোবাসা শুধু
দূরত্ব মানতে চায় না।

মায়ের মুখে হাসি ফুটুক,
এই আমার প্রার্থনা।
নিজের ভাগ্য পরে দেখব,
মা যেন কাঁদেন না।

মা দিবস একদিন কেন,
মা তো প্রতিদিন।
মায়ের জন্য ভালোবাসা
থাকুক সারাজীবন।

মা আমার ছোট্ট ঘরের
সবচেয়ে বড় আলো।
মা থাকলে দুঃখের দিনও
somehow লাগে ভালো।

মাকে নিয়ে কবিতা আবৃত্তি

মাকে নিয়ে কবিতা পড়ি,
কণ্ঠ কেন থামে?
শব্দগুলো হারিয়ে যায়
মায়ের কথা নামেই।

মঞ্চ ভরা মানুষের মাঝে
মায়ের মুখই দেখি।
কবিতা পড়তে পড়তে হঠাৎ
নিজের চোখে থাকি।

মায়ের কথা বলতে গেলে
গলা ভারী হয়।
যতই শক্ত থাকার চেষ্টা করি,
মায়া জিতে যায়।

আবৃত্তির সেই শেষ লাইনে
মায়ের নামটা এলে,
বুকের ভেতর ছোট্ট ছেলে
দৌড়ে বাড়ি চলে।

মায়ের জন্য লেখা কবিতা
কাগজে থাকে না।
একবার পড়লেই বুকের মাঝে
চুপচাপ বসে যায়।

মায়ের কথা আবৃত্তি করি,
শ্রোতা থাকে চুপ।
কারও চোখে জল জমে,
কারও মুখে রোদ।

মায়ের নামটি উচ্চারণে
কেমন নরম সুর।
মনে হয় সেই ছোটবেলায়
ফিরেছি বহুদূর।

কবিতা পড়ার সময় আমি
মঞ্চে একা দাঁড়াই।
তবু মায়ের হাতের ছায়া
পাশে যেন পাই।

মায়ের কথা বলতে গিয়ে
শব্দ হয়ে যায় কম।
মায়ের ভালোবাসার কাছে
কবিতাও যেন নরম।

আবৃত্তির মঞ্চে আজ
মায়ের গল্প বলি।
মনে মনে মায়ের পাশে
বসে থাকি চলি।

মায়ের চোখের জল দেখিনি
অনেকবারই হয়তো।
আজ কবিতা পড়তে গিয়ে
বুঝি কতটা কেঁদেছেন তিনি।

মাকে নিয়ে কবিতা পড়ি,
হাততালি আসে শেষে।
আমার মনে শুধু মা,
দাঁড়িয়ে আছেন হেসে।

মায়ের কথা বলতে গিয়ে
থেমে যায় কণ্ঠ।
কিছু অনুভূতি শব্দ পেলে
হারায় তার রঙ।

আবৃত্তির প্রতিটি লাইনে
মায়ের গন্ধ পাই।
মনে হয়, মা রান্নাঘরে—
“খাবি নাকি?”—শুনি তাই।

মায়ের জন্য লেখা কথা
মুখে আনা ভার।
মা যে আমার জীবনের
সবচেয়ে বড় কবিতার।

মায়ের নামটা বলতেই যেন
মঞ্চটা ঘর হয়ে যায়।
হাজার মানুষের মাঝেও তখন
মা-ই শুধু মনে রয়।

কবিতা শেষ, আলো নিভে,
সবাই বাড়ি যায়।
আমার মনের মঞ্চে কিন্তু
মায়ের মুখটা রয়।

মাকে নিয়ে আবৃত্তি মানে
নিজের গল্প বলা।
মায়ের কাছে পাওয়া জীবন
মায়ের কাছেই তোলা।

গলা কাঁপে, চোখ ভিজে যায়,
তবু কবিতা পড়ি।
মায়ের ঋণ শোধ হবে না,
তাই শব্দে একটু ধরি।

মায়ের মুখের ছোট্ট হাসি
আমার বড় ছন্দ।
সেই হাসিটা মনে পড়লে
ভুলে যাই সব দ্বন্দ্ব।

আবৃত্তির মাইক্রোফোনে
মায়ের নামটি বাজে।
বুকের ভেতর পুরোনো সেই
উঠোনটাও সাজে।

মায়ের কথা বলার সময়
সাজানো কথা চাই না।
মায়ের জন্য সত্যি কথাই
সবচেয়ে বেশি মানায়।

মাকে নিয়ে কবিতা পড়ে
কেউ যদি চুপ থাকে,
বুঝব হয়তো তারও কোনো মা
মনে এসে ডাকে।

মায়ের মুখটা মনে রেখে
কবিতা পড়ি ধীরে।
শব্দগুলো হাত ধরে যায়
শৈশবেরই তীরে।

মায়ের জন্য লেখা কবিতা
শেষ হয় না কখনো।
মাকে যতই লিখতে যাই,
ততই কমে যেন।

মঞ্চে দাঁড়িয়ে মায়ের কথা
বলাটা সহজ নয়।
মা যে শুধু একজন মানুষ নন,
তিনি আমার পৃথিবী হয়।

আবৃত্তির শেষে মাথা নত,
হাত দুটো বুকের কাছে।
মা থাকুক বা দূরে থাকুক,
তাঁর দোয়া সঙ্গে আছে।

মায়ের নামে লেখা কবিতা
কাগজে থাকুক না।
মায়ের জন্য ভালোবাসাটা
জীবনে হারাক না।

কবিতা পড়ি, মানুষ শোনে,
আমি শুনি মায়ের ডাক।
সেই ডাকেই জীবনের সব
ক্লান্তি যায় মুছে আজ।

মাকে নিয়ে আবৃত্তি শেষে
একটা কথাই বলি—
পৃথিবীতে যতই বড় হই,
মায়ের কাছে শিশু চলি।

ছন্দ মাকে নিয়ে কবিতা

মায়ের মুখে মায়ার হাসি,
ঘরটা ভরে আলো।
মা থাকলে এই পৃথিবী
লাগে ভীষণ ভালো।

মায়ের কোলে ঘুমের দেশে
স্বপ্ন আসে নেমে।
মায়ের হাতটা মাথায় থাকলে
দুঃখ যায় যে থেমে।

মায়ের আঁচল নরম ছায়া,
মায়ের কথা গান।
মায়ের মায়ায় বেঁচে থাকে
আমার এই প্রাণ।

মায়ের হাতে ভাতের থালা,
পাশে বসা সুখ।
সেই সুখের কাছে হার মানে
দুনিয়ার সব মুখ।

মা যে আমার ভোরের পাখি,
মায়ের ডাকে দিন।
মায়ের মুখটা দেখলে আমার
হাসে মনের ঋণ।

মা থাকলে ঘরটা যেন
ছোট্ট সুখের মেলা।
মা না থাকলে বুঝি তখন
কতটা ফাঁকা বেলা।

মায়ের বকা মিষ্টি লাগে,
রাগের ভেতর মায়া।
সেই রাগটাও মনে পড়ে
যখন থাকি ছায়া।

মায়ের হাসি চাঁদের আলো,
মায়ের কথা ফুল।
মায়ের মতো আপন মানুষ
খুঁজে পাওয়া ভুল।

মায়ের পায়ের শব্দ শুনে
মনটা হাসে চুপে।
মা যে আমার শান্তির নদী,
ভাসি তারই রূপে।

মায়ের মুখে দুঃখ দেখলে
বুকটা হয়ে ভার।
মা হাসলেই মনে হয় যে
জিতেছি বারবার।

মায়ের ভালোবাসা যেন
শেষ না হওয়া গান।
যত শুনি ততই বাড়ে
মায়ের প্রতি টান।

মায়ের হাতের রান্না খেলে
মনটা হয় খুশি।
বাইরে খেয়ে ফিরে এসে
বলি, “মা, আরেকটু দিও দেখি।”

মায়ের ছায়া মাথায় থাকলে
ভয়টা থাকে দূর।
মা যে আমার জীবনের
সবচেয়ে আপন সুর।

মায়ের চোখে স্বপ্ন থাকে,
সন্তানেরই ঘিরে।
নিজের কথা ভুলে গিয়ে
থাকেন আমাদের নিয়ে।

মা যে আমার ঘরের বাতি,
মায়ের আলো প্রাণ।
মা ছাড়া এই পৃথিবীটা
বড় বেশি শূন্যস্থান।

মায়ের কথা মনে পড়লে
মনটা নরম হয়।
যত দুঃখই থাকুক মনে,
একটু হাসি রয়।

মায়ের কাছে আবদার যত,
হিসাব রাখেন কে?
মা তো শুধু হাসতে হাসতে
সবই দেন যে আমাকে।

মায়ের চোখের মায়ার কাছে
হার মানে সব রাগ।
মা একবার ডাকলেই যেন
খুলে যায় সব ভাগ।

মায়ের হাতে মাথা রাখলে
ঘুম নামে চোখে।
দুনিয়ার সব চিন্তা তখন
থাকে অনেক দূরে।

মায়ের কথা ছন্দে লিখি,
ছন্দ তবু কম।
মা যে আমার জীবনের
সবচেয়ে বড় কবিতার সম।

মায়ের হাসি ভোরের রোদ,
মায়ের ছোঁয়া শীত।
মা থাকলে দুঃখের দিনও
লাগে একটু মিষ্টি।

মা যে আমার সুখের ঠিকানা,
মায়ের কাছে ফিরি।
পৃথিবী যত ডাকুক আমায়,
মায়ের ঘরেই ফিরি।

মায়ের মুখে হাসি ফুটুক,
এই তো আমার চাওয়া।
মায়ের দুঃখ দূরে যাক,
সুখে থাকুক ছাওয়া।

মায়ের স্নেহ নদীর মতো,
থামে না তার ধারা।
মা যে আমার বুকের ভেতর
সবচেয়ে আপন তারা।

মায়ের ভালোবাসার কাছে
দামি কিছুই নয়।
মা থাকলে ছোট্ট ঘরেও
সুখের রাজ্য হয়।

মায়ের দোয়া সঙ্গে থাকলে
পথটা হয় সহজ।
যত ঝড়ই সামনে আসুক,
মনটা থাকে সবল।

মায়ের মুখের মিষ্টি ডাক,
কানে বাজে আজও।
বড় হয়েছি, তবু মা যে
ছোট্ট ছেলে সাজায়।

মায়ের জন্য লিখি ছন্দ,
লিখি কত গান।
শেষে দেখি মায়ের কাছে
ঋণী আমার প্রাণ।

মা আমারই সকালবেলা,
মা আমারই রাত।
মায়ের মায়া জড়িয়ে আছে
জীবনের প্রতিটা পাত।

মাকে নিয়ে ছন্দ লিখে
শেষ করা কি যায়?
মা তো এমন এক কবিতা,
পড়তে পড়তে জীবন যায়।

কোন এক মাকে নিয়ে কবিতা

কোন এক মা ভোরের আগে
উঠেন ঘুম ভেঙে।
সবার জন্য দিনটা সাজান,
নিজের কথা ফেলে।

কোন এক মা রান্নাঘরে
চুপচাপ কাজ করেন।
সন্তানের মুখে হাসি দেখে
নিজের ক্লান্তি ভোলেন।

কোন এক মা জানালাতে
বসে পথের দিকে চায়।
ছেলে কখন ফিরবে ঘরে,
সেই ভাবনাতেই রাত যায়।

কোন এক মা পুরোনো শাড়ি
যত্ন করে রাখেন।
সন্তানের দেওয়া ছোট্ট জিনিস
সোনার চেয়েও দেখেন।

কোন এক মা নিজের হাতে
সংসারটাকে গড়েন।
ভাঙা স্বপ্ন বুকের মাঝে
লুকিয়ে হাসি ধরেন।

কোন এক মা দুপুরবেলা
একাই ভাতটা খান।
আগে সবাই খেয়েছে কিনা,
সেটাই তাঁর প্রাণ।

কোন এক মা বৃষ্টির দিনে
ছাতা নিয়ে দাঁড়ান।
সন্তান ভিজে ফিরলে আগে
শুকনো কাপড় আনান।

কোন এক মা রাত জেগে
সন্তানের জ্বর দেখেন।
নিজের চোখে ঘুম থাকলেও
চোখের পাতা মেলেন।

কোন এক মা দরিদ্র হলেও
মনটা ভীষণ ধনী।
নিজের ভাগের সুখটুকুও
সন্তানের হাতে দেনই।

কোন এক মা ঈদের দিনে
নতুন কাপড় গোনেন।
নিজের জন্য কিছু না রেখে
সন্তানদেরই দেন।

কোন এক মা বাজার থেকে
ফেরেন ভারী ব্যাগে।
নিজের জন্য কিছু নেই তবু
হাসি থাকে মুখের ভাগে।

কোন এক মা ছেলের ফোনের
অপেক্ষাতে থাকেন।
ফোনটা বাজলেই হাসি দিয়ে
বলেন, “কেমন আছিস রে?”

কোন এক মা পুরোনো খাটে
একা ঘুমান রাতে।
সন্তান গেছে দূর শহরে,
তবু থাকেন আশাতে।

কোন এক মা ছেলের ছবি
বুকে নিয়ে হাসেন।
ছবির মানুষ দূরে থেকেও
মায়ের ঘরেই বাসেন।

কোন এক মা মেয়ের বিয়ে
দিয়ে বসেন চুপ।
খালি ঘরে শাড়ির গন্ধে
খোঁজেন পুরোনো রূপ।

কোন এক মা নিজের দুঃখ
কাউকে বলেন না।
সন্তানের চোখে জল দেখলে
নিজের চোখও মানে না।

কোন এক মা সন্ধ্যাবেলা
বারান্দাতে বসেন।
সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে
পুরোনো কথা কষেন।

কোন এক মা সন্তানের জন্য
কত রাত যে জাগেন।
সন্তান শুধু বড় হয়ে যায়,
মায়ের রাত বাড়ে।

কোন এক মা মুঠোফোনে
ছেলের ছবি দেখেন।
কথা শেষের পরও চুপে
স্ক্রিনের দিকে থাকেন।

কোন এক মা নিজের শখটা
আলমারিতে রাখেন।
সন্তানের নতুন জামা দেখে
আনন্দে চোখ ঢাকেন।

কোন এক মা কষ্ট পেলেও
বলেন, “কিছু হয়নি।”
মায়ের মুখটা পড়তে গেলে
বোঝা যায় যে সবই।

কোন এক মা ভাঙা চশমায়
চিঠিটা পড়েন ধীরে।
সন্তানের হাতের লেখা যেন
বসন্ত আনে ঘিরে।

কোন এক মা শীতের রাতে
পুরোনো কম্বল টানেন।
সন্তানের কথা মনে পড়লে
নিজের ঘুমটা মানেন না।

কোন এক মা পকেট গুনে
সংসারের হিসাব করেন।
সন্তানের ফি দিতে গিয়ে
নিজের ইচ্ছা মুছে দেন।

কোন এক মা অসুখ হলেও
কাজ থামাতে চান না।
সন্তান যেন বুঝতে না পারে,
তাই কষ্ট জানান না।

কোন এক মা মাটির ঘরে
স্বপ্ন দেখেন বড়।
সন্তানের ভবিষ্যৎটাকে
ভাবেন ভোরের মতো।

কোন এক মা দরজার পাশে
জুতো জোড়া রাখেন।
সন্তান ফিরবে—এই আশাতেই
দরজার দিকে তাকান।

কোন এক মা পৃথিবীর কাছে
হয়তো খুবই সাধারণ।
কিন্তু সন্তানের চোখে তিনি
পুরো একটি আকাশ।

কোন এক মা নিজের জীবন
সন্তানের নামে দেন।
পৃথিবী তাঁকে চিনুক না চিনুক,
সন্তান তাঁকে চেনেন।

কোন এক মা শেষে শুধু
একটি কথাই চান—
“তুই ভালো থাকিস বাবা,
এটাই আমার প্রাণ।”

মৃত মাকে নিয়ে কবিতা

মা নেই আজ, তবু ঘরে
মায়ের গন্ধ রয়।
পুরোনো শাড়ি ছুঁয়ে দেখি,
বুকটা কেমন হয়।

রান্নাঘরের খালি চুলা
অনেক কথা কয়।
মা নেই বলে সেই ঘরটাতে
আগের হাসি নয়।

মায়ের চেয়ার খালি পড়ে,
কেউ বসে না তাতে।
মনে হয় মা বুঝি এখন
ডাকবেন হঠাৎ রাতে।

মায়ের ছবি দেয়ালে আছে,
হাসছেন আগের মতো।
ছবির মানুষ কথা বলেন না,
তবু মনে হয় কত।

মায়ের হাতে মাথা রাখার
সুযোগ নেই আর।
পৃথিবীটা ভরা মানুষ, তবু
মনটা বড় ভার।

মা চলে গেছেন অনেক দূরে,
ফেরার কোনো পথ নেই।
তবু রাতে স্বপ্নের ভেতর
মা যে কাছে থাকেন সেই।

মায়ের শাড়ির ভাঁজে আজও
শৈশব লুকিয়ে আছে।
শাড়িটা ছুঁলেই মনে হয়,
মা বুঝি পাশেই আছে।

মায়ের রান্নার গন্ধটুকু
ভুলতে পারিনি আজও।
অন্য ঘরে হাজার স্বাদ,
মায়ের মতো নয় তো।

মায়ের ডাকটা কানে বাজে,
অথচ মা নেই ঘরে।
এই অভাবটা বোঝা যায়
নীরব রাতের পরে।

মা চলে যাওয়ার পর বুঝলাম,
ঘরও কাঁদতে জানে।
দরজা, জানালা, উঠোনজুড়ে
মায়ের স্মৃতি টানে।

মায়ের বকুনি শুনতে এখন
মনটা ভীষণ চায়।
তখন যেটা বিরক্ত লাগত,
আজ সেটাই চোখে ভাসে।

মায়ের হাতের পুরোনো চুড়ি
বাক্সের মাঝে রয়।
চুড়ির শব্দ নেই যে আর,
তবু মায়ের মতো হয়।

মায়ের বিছানাটা খালি,
বালিশটা চুপচাপ।
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গিয়ে
চোখে নামে চাপ।

মা নেই বলে উৎসব এলেও
আনন্দ অর্ধেক।
সবাই হাসে, আমি শুধু
মায়ের কথাই ভাবি একেক।

মায়ের কবরের পাশে গেলে
কথা জমে যায়।
বলার মতো হাজার কথা,
মুখে কিছুই না আসে হায়।

মায়ের জন্য দোয়া করি,
চোখে জমে জল।
আল্লাহ যেন শান্তি দেন,
এটাই আমার বল।

মায়ের মুখটা মনে পড়ে
ভোরের আজানে।
মনে হয় মা বলছেন যেন,
“নামাজ পড়িস প্রাণে।”

মায়ের হাতের স্পর্শটুকু
মনে আছে আজও।
বয়স যতই বাড়ুক আমার,
মা-কে ভুলব না তো।

মায়ের পুরোনো চিঠিগুলো
পড়ি একা রাতে।
অক্ষরগুলো মায়ের মতো
হাত রাখে মাথাতে।

মায়ের ছবি বুকে রেখে
কত রাত যে কাটি।
চোখের জলে ভিজে যায় যে
ছবির চারপাটি।

মা থাকলে আজ বলতাম তাঁকে,
“একটু পাশে বসো।”
এখন শুধু বাতাস আসে,
কথা আসে না তবু।

মায়ের শেষ কথাগুলো আজ
মনে পড়ে বারবার।
তখন বুঝিনি কথাগুলোর
ভেতর কত আদর।

মায়ের জন্য কান্না আসে,
লুকাই না আর।
মাকে হারানো দুঃখ নয় শুধু,
হারানো এক সংসার।

মায়ের ঘরের পুরোনো ঘড়ি
টিকটিক করে যায়।
সময় চলে, মা চলে না—
স্মৃতি থেকে যায়।

মা নেই তবু মায়ের শেখানো
কথাগুলো আছে।
ভুল পথে গেলে মায়ের মুখটা
সামনে এসে দাঁড়ায় কাছে।

মায়ের হাতের লেখা নামটা
কাগজে এখনো রয়।
নামটা দেখলেই বুকের ভেতর
ছোট্ট শিশুটি হয়।

মায়ের কবরের মাটি ছুঁয়ে
চুপ করে থাকি।
কত কথা বলতে চাই,
শুধু চোখের জল রাখি।

মা চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর
দোয়া কি যায় মরে?
মনে হয় অদৃশ্য হাতে
আগলে রাখেন ঘিরে।

পৃথিবী আমাকে বড় করেছে,
মা করেছিলেন মানুষ।
তাই মা নেই—এই কথাটাই
সবচেয়ে বড় শূন্য।

মাকে নিয়ে লিখতে বসলে
কলম থেমে যায়।
কিছু মানুষ চলে গেলেও
কবিতা হয়ে রয়।

শেষ কথা

মা মানে মায়া, মা মানে ঘর,
মা মানে ক্লান্ত দিনে শান্তির পরশ।
মা মানে চোখের জলে লুকানো হাসি,
মা মানে বুকের ভেতর সবচেয়ে আপন বাসি।

কবিতা লিখে মায়ের ঋণ
শোধ করা কি যায়?
মায়ের মতো মানুষটাকে
শব্দে ধরা যায়?

যতদিন মায়ের হাতটা মাথার ওপর রয়,
ততদিন দুঃখ এলেও মনটা ভেঙে নয়।
আর যদি কোনোদিন মা থাকেন না পাশে,
তাঁর স্মৃতিই তখন নিঃশব্দে বুকের মাঝে হাসে।

তাই মাকে ভালোবাসুন আজ,
কাল বলে কিছু নেই—
মায়ের মুখের হাসির চেয়ে
দামি উপহার নেই।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *