| |

১১৯+নীরবতা নিয়ে জীবনমুখী কবিতা,ছন্দ ও শায়েরি২০২৬

সব অনুভূতি মুখে প্রকাশ করা যায় না। কিছু কষ্ট, অভিমান আর ভালোবাসা নীরবতার আড়ালেই লুকিয়ে থাকে। কখনো একটুখানি চুপ থাকা বলে দেয় হাজারো না-বলা কথা। আর সেই নীরব অনুভূতিগুলোকে ভাষায় প্রকাশ করতেই আজকের এই আয়োজন।

এখানে থাকছে নীরবতা, অভিমান ও নিঃশব্দ ভালোবাসা নিয়ে বাছাই করা সুন্দর সব কবিতা, ছন্দ ও শায়েরি। আপনার মনের অব্যক্ত কথাগুলো খুঁজে পেতে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। পাশাপাশি আরও উক্তি, ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও কবিতা পড়তে ঘুরে আসুন আমাদের [নীরবতা নিয়ে উক্তি, ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও কবিতা] বিষয়ক পূর্বের আর্টিকেলটি থেকে।

নীরবতা নিয়ে কবিতা

নীরব রাতে নিস্তব্ধতা
বলে যায় কত কথা,
একলা মনে জমা হয়
পুরোনো যত ব্যথা।

নীরবতা নয় হেরে যাওয়া,
নয় কো কোনো ছাই,
নীরব থেকে নিজের মাঝে
নিজেকেই খুঁজে পাই।

বলার ছিল অনেক কথা
বলা হলো না আর,
নীরবতায় ঢেকে গেল
ভালোবাসার দ্বার।

কিছু কথা না বলাতেই
থেকে যায় চিরকাল,
নীরবতার মাঝে বাঁচে
দুঃখেরই এই কাল।

নীরবতা বিষাদময়
এক সুরের মেলা,
বুকের ভেতর একলা মন
কাঁদে সারা বেলা।

আকাশের তারার পানে
চেয়ে থাকি একা,
নীরবতার চাদরে আজ
কষ্টগুলো আঁকা।

নীরব থেকে দেখে যাই
পৃথিবীর এই খেলা,
মনের শূন্যতা বুকে
কাটে বিষাদ বেলা।

কিছু চুপ থাকা এনে দেয়
গভীর কঠিন ক্ষত,
নীরবতায় পুড়ছি আমি
একলা প্রতিনিয়ত।

কথা ছিল একসাথে
কাটাবো সারাজীবন,
নীরবতায় ভেঙে গেল
ভালোবাসার মন।

চুপ করে থাকা মানেই
মেনে নেওয়া তো নয়,
নীরবতার আড়ালেও
নীরব প্রতিবাদ হয়।

ঘরের কোণে জমাট বাঁধে
কঠিন আঁধার কালো,
নীরবতাই নিভিয়ে দিল
জীবনের সব আলো।

কথা না বলার কষ্টগুলো
বাতাস নিয়ে যায়,
বুকের মাঝে নীরব নদী
স্মৃতির কূলে ধায়।

ঝরে পড়া শুকনো পাতা
একলা নীরব পথ,
কষ্টের মাঝে থেমে গেল
জীবনের এই রথ।

ঝড়ের আগে বাতাস যেমন
চুপটি করে থাকে,
আমার নীরবতাও তেমন
কষ্ট বুকে ঢাকে।

শব্দ যখন হারিয়ে যায়
রাতের অন্ধকারে,
নীরবতা থাবা বসায়
হৃদয় চারদ্বারে।

কথা বলতে গিয়েও যখন
থমকে দাঁড়ায় মুখ,
নীরবতায় খুঁজে নিই
ভাঙা হৃদয়ের সুখ।

হাজার লোকের ভিড়েও আমি
ভীষণ একা চুপ,
নীরবতার সাগরে আজ
ডুবেছে আসল রূপ।

নীরব চোখের এক ফোটা জল
অনেক কিছু বলে,
মিছে হাসির আড়ালে আজ
কষ্টের প্রদীপ জ্বলে।

নদীর ধারে বসে আছি
একলা নিস্তব্ধে,
মন কেঁদে যায় আপন মনে
চরম নিঃশব্দে।

নীরবতার পাঠশালাতে
শিখছি বেঁচে থাকা,
কষ্ট চেপে হাসির মাঝে
নিজের মুখটা ঢাকা।

আরো রয়েছে আপনাদের জন্য সময় নিয়ে সেরা উক্তি, ক্যাপশন স্ট্যাটাস ও কবিতার অনন্য সংকলন আমাদের এই আর্টিকেলটিও

নীরবতা ও অভিমান নিয়ে কবিতা

অভিমানী মনটা আমার
নীরব হয়ে রয়,
বুকের কষ্ট কাউকে তো
আর বলা না হয়।

অভিমানের ভাষা যদি
বুঝতে একটুখানি,
নীরবতায় ঝরতো না আর
চোখের নোনা পানি।

বুকভরা অভিমান নিয়ে
চুপ করে একা থাকা,
স্মৃতির ক্যানভাসে শুধুই
তোমার ছবি আঁকা।

অভিমান তো তারই ওপর
করা যায় যে প্রিয়,
নীরবতাকে ভুল বুঝে
ব্যথা না আর দিও।

নীরবতা যেদিন আমার
বুঝতে পারবে তুমি,
হয়তো সেদিন হারিয়ে যাবো দূর অচিন ভূমি।

তুমি ভাবো ভুলে গেছি
পাইনি কোনো কষ্ট,
অভিমানের নীরবতায়
সব হলো যে নষ্ট।

কথা আটকে থাকে ঠোঁটে
আসে না তো মুখে,
অভিমানের নীরবতা
জমে থাকে বুকে।

অভিমান তো রাগ নয় রে
অভিমান এক মায়া,
নীরবতায় লুকিয়ে থাকে
ভালোবাসার ছায়া।

অভিমানের দেয়াল গড়ে
দূরত্ব বাড়ালে,
নীরবতার অন্ধকারে
আমায় তুমি হারালে।

চুপ থাকাটা অভিমানের
সবচেয়ে বড় রূপ,
ঝড়ের মাঝে প্রকৃতি যেমন
ভীষণ থাকে চুপ।

অভিমানী চোখ দুটো আজ
জলসাগরে ভাসে,
নীরবতায় থাকা মন
আর তো নাহি হাসে।

নীরবতার চাদর মুড়ি
দিয়ে আছি একা,
অভিমানের কারণে আজ
পেলুম না তোর দেখা।

অভিমান সে তো এক
ভালোবাসার অধিকার,
নীরব হলে কেন ভাবো
শেষ হলো ভালোবাসার পার?

কথা না বলে কাটিয়ে দিলে
কত প্রহর নদী,
অভিমান তো মুছে যেত
ফিরে আসতে যদি।

অভিমানের ঝড় থামে না
নীরব রাতের কোলে,
কষ্টগুলো কান্না হয়ে
দু’চোখ দিয়ে গলে।

একটুখানি খোঁজ নিলে কি
হতো ক্ষতি বলো?
অভিমানের কান্নাগুলো
আজ নদী হয়ে চললো।

অভিমানী মেঘ জমলে
বৃষ্টি তো আসেই,
নীরব হলে মন কি আর
সহজেতে হাসে?

নীরবতায় লুকিয়ে রাখা
অভিমানের ক্ষত,
কেউ দেখেনি রক্তক্ষরণ
হচ্ছে অবিরত।

অভিমানী এই হৃদয়ে
আঘাত দিলে কত,
নীরব হয়ে সহ্য করি
নিদারুণ কষ্ট শত।

নীরবতা ও অভিমান আজ
জড়িয়েছে গলে,
মিষ্টি স্মৃতিগুলো আঁধারে
হারিয়ে গেল চলে।

আরো পড়তে পারেন অনুভূতি নিয়ে ক্যাপশন, স্ট্যাটাস, কবিতা ও শায়েরির অনন্য সংকলন আমাদের এই আর্টিকেলটিও

নীরবতা নিয়ে জীবনমুখী কবিতা

নীরবতা শেখায় মোদের
ধৈর্য আর সহন,
ঝড়ের মাঝে শক্ত করো
নিজের মনের বাঁধন।

জীবন এক পরীক্ষার
কঠিন সমীকরণ,
নীরবতার শক্তিতেই
জয়ের শুভক্ষণ।

নীরবতা শেখায় কেমন
সইতে হয় আঘাত,
আঁধার কেটে ঠিকই আসে
মিষ্টি এক প্রভাত।

বোকা মানুষ শব্দ বাড়ায়
জ্ঞানী থাকে চুপ,
নীরবতার মাঝে থাকে
চিন্তার গভীর রূপ।

নদীর গভীরতা যেমন
বোঝা না যায় তীরে,
নীরব মানুষের শক্তি থাকে
তার প্রজ্ঞার ভিড়ে।

কথা কম কাজ বেশি
এই তো জীবননীতি,
নীরবতায় লুকিয়ে থাকে
আসল মানবপ্রীতি।

নীরবতা দুর্বলতা নয়
নীরবতা এক বল,
মনের ভিড়ে লুকিয়ে থাকে
হাজারো কৌশল।

অজুহাত সব বাদ দিয়ে
একটুখানি থামো,
নীরব থেকে জীবনের
নতুন যুদ্ধে নামো।

কথা দিয়ে মন জয় করা
সহজ হতে পারে,
নীরব থেকে আত্মগঠন
কঠিন সংসারে।

আঘাত এলে চুপ করে সব
সহ্য করে নাও,
নীরবতাকে সঙ্গী করে
এগিয়ে চলি যাও।

নিজের সাথে নিজের কথা
নীরবতায় হয়,
শান্ত হলে দূর হয়ে যায়
মনের সকল ভয়।

প্রকৃতিও তো নীরব হয়ে
দেখায় কত রূপ,
পাহাড় নদী আকাশ বাতাস
সবাই থাকে চুপ।

ক্রোধের মাথায় কথা বলা
ডেকে আনে ক্ষয়,
নীরব থাকলে কঠিন বাধা
সহজে জয় হয়।

শব্দহীন এই পথচলা
ভুলিও না তো ভাই,
নীরবতার চেয়ে বড়
কোনো শক্তি নাই।

ব্যর্থতাকে শান্ত মনে
সহ্য করতে শেখো,
নীরবতার আড়ালে আজ
জয়ের স্বপ্ন দেখো।

পৃথিবীর সব মহান কাজ
নীরবতায় হয়,
হইচই আর কোলাহলে
আসল কিছু নয়।

নিন্দুকের মুখে ছাই দিতে
নীরবতাই ঢাল,
চুপ করে কাজ করে যাও
পাল্টে যাবে কাল।

অভিজ্ঞতা শেখায় মানুষের
নীরব হওয়ার কথা,
নীরবতায় মুছে যায়
মনের ব্যাকুলতা।

নীরবতা হলো প্রজ্ঞার
এক মহান অলংকার,
যে চেনে এই শান্ত পথ
ঘুচে যায় তার আঁধার।

নীরব থেকে শিক্ষা নাও
প্রকৃতির এই কাছে,
নীরবতার মাঝেই নতুন
সকালের আলো আছে।

নীরবতা নিয়ে ছন্দ

নীরব রাতের নিঝুম আলো,
বাসলো না কেউ আমায় ভালো।
শব্দগুলো দূরে দূরে,
মন কাঁদে বিষাদ সুর।

চুপটি করে একলা বসে,
কষ্টগুলো যাচ্ছে খসে।
নীরবতার এই তো খেলা,
কাটে না আর দুঃখের বেলা।

কথা বলা বন্ধ হলো,
স্মৃতির প্রদীপ নিভে গেল।
নীরবতার ছায়ায় বসে,
অশ্রু ঝরে দু’চোখ বেয়ে।

নীরব নদীর শান্ত জল,
হৃদয় মাঝে কিসের ছল?
শব্দহীন এই চরাচর,
পর হয়ে যায় আপন ঘর।

মেঘের বুকে নীরব আলো,
আমায় কি আর বাসবে ভালো?
আজকে কেন নীরব তবে,
একলা জীবন কেমনে যাবে?

বাতাস দোলে চুপিসারে,
মন কাঁদে মোর বারেবারে।
নীরবতার চাদর গায়ে,
হাঁটি একা নদীর ঘাটে।

নীরব চোখে গোপন ব্যথা,
বলা হলো না মনের কথা।
আঁধার রাতে একলা মন,
নীরবতায় কাটায় প্রহর।

কথা ছাড়া কাটল দিন,
বাড়ছে কষ্ট দিনকে দিন।
নীরবতার এমন বাঁধন,
বুকের ভেতর কাঁদে মন।

নীরব সুরে বাজলো বাঁশি,
হৃদয় জুড়ে বিষাদ রাশি।
নাইবা হলো মুখের কথা,
নীরবতায় সইবো ব্যথা।

চুপ থাকাটা শিখল মন,
পর হলো সব আপনজন।
নীরবতার এই আঁধারে,
একলা আছি ঘরের দ্বারে।

হাঁটছি একা নীরব পথে,
নাই তো কেউ আমার সাথে।
কষ্টগুলো আপন করি,
নীরবতায় বেঁচে মরি।

বুকভাঙা এই নীরবতা,
বলবে কে আর পুরোনো কথা?
শব্দগুলো হারিয়ে গেছে,
দুঃখের মেঘ আকাশে জমেছে।

নীরব প্রহর কাটছে একা,
মিললো না আর তোর দেখা।
চুপ থাকাটা অভ্যাস হলো,
হৃদয়ের আলো নিভে গেল।

নীরবতার মিষ্টি ছায়া,
কাটলো না তো রূপের মায়া।
একলা মনে দীর্ঘশ্বাস,
হারিয়ে গেল সব বিশ্বাস।

চুপিসারে বনের মাঝে,
নীরবতার সানাই বাজে।
কষ্ট চেপে হাসির মেলা,
নীরবতায় শেষ খেলা।

আজকে কেন নীরব রাত,
নাই তো কারো ছায়ার হাত।
মনের ভিড়ে শূন্যতা,
নীরবতায় চরম নীরবতা।

কথা বলার মানুষ নাই,
নীরবতাকে জড়িয়ে পাই।
একলা ঘরের নীরব কোণ,
উদাস হয়ে থাকে মন।

নীরবতা এক গোপন কথা,
মুছে দেয় সব মনের ব্যথা।
যদি একটু শান্ত হও,
নীরবতার গানটি শোনো।

নদীর স্রোতে নীরব সুর,
আমার পথ যে বহুদূর।
একলা পথিক নীরব হয়ে,
চলে পথের কষ্ট সয়ে।

নীরব চোখের এক ফোটা জল,
সব কষ্টের এটিই ফল।
শব্দহীন এই মনের ঘর,
রয়ে গেলাম তোমার পর।

নীরবতা নিয়ে শায়েরি

আমার নীরবতাকে তুমি
দুর্বলতা মনে করো না,
ভেতরের ঝড়টা দেখলে
তুমি সইতে পারতে না।

কোনো উত্তর পাওয়ার আশা
যখন থাকে না আর বাকি,
নীরব থাকাই তখন ভালো
নিজেকে দিয়ে ফাঁকি।

নীরবতার আড়ালে কত
ভালোবাসা ভেঙে যায়,
শব্দহীন এক দীর্ঘশ্বাসে
সুখগুলো সব উবে যায়।

আমার চুপ থাকাটা ছিল
আমার চরম আত্মসম্মান,
তুমি ভাবলে আমি বুঝি
মেনে নিলাম অপমান।

কাউকে ক্ষমা করার সেরা
উপায় হলো নীরবতা,
তাতে প্রকাশ পায় না আর
মনের কোনো দীনতা।

কথা দিয়ে মন ভাঙা
খুব সহজ এই ধরায়,
নীরব থেকে কষ্ট সওয়া
কঠিন বড় হায়।

সম্পর্কের মাঝে যখন
কথা কমে যেতে থাকে,
নীরবতা এসে তখন
দূরত্বের দেয়াল শেখে।

আমার নীরবতার মাঝে
অভিযোগ জমা শত,
নীরব হয়ে সয়ে যাচ্ছি
বুকে নিয়ে গোপন ক্ষত।

কখনো কখনো নীরব থাকাই
হয়ে ওঠে শ্রেষ্ঠ জবাব,
অনর্থক তর্কে মেতে
নষ্ট হয় মানুষের স্বভাব।

আকাশের মতো নীরব হয়ে
সয়ে যাই সব আঘাত,
জানি আমি নীরবতার পর
আসবে নতুন প্রভাত।

আমার এই নীরবতা
নয় তো কোনো অভিনয়,
ভাঙা মনটা জোড়া দিতে
একটু নীরব হতে হয়।

তুমি ভেবেছো আমি কত
শান্ত আর কত চুপ,
ভেতরে জ্বলছে বিরহের
আগুনের এক রূপ।

কত কথা জমে আছে
ছোট এই হৃদয়ের কোণে,
নীরবতা বাসা বেঁধেছে
নিঃসঙ্গ এই মনে।

নীরবতার চেয়ে বড়
কোনো বিচারক তো নাই,
সঠিক সময়ে নীরবতাই
সঠিক জবাব দেয় ভাই।

মন ভেঙে গেলে মানুষ আর
চেঁচামেচি করে না,
নীরব হয়ে সয়ে নেয়
কোনো কূল পায় না।

কথা বলতে বলতে আজ
ক্লান্ত হয়ে গেছি,
তাই নীরবতার চাদরে
নিজেকে মুড়িয়ে নিয়েছি।

আমার নীরবতাকে তুমি
অবহেলা মনে করেছো,
সত্যি বলতে ভেতরের
মানুষটাকে মেরেছো।

নীরবতার গহীনে আমি
হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে,
কেউ কি আর ফিরিয়ে দেবে
পুরোনো সেই আমাকে?

যেদিন আমার নীরবতা
কথা বলতে শুরু করবে,
তোমার সব অহংকার সেদিন
ধূলোয় লুটিয়ে পড়বে।

শব্দ দিয়ে কি আর বোঝানো যায়
হৃদয়ের এই নীরব ক্ষত?
নীরব থেকে পুড়ছি আমি
একলা নিঃশব্দে প্রতিনিয়ত।

নীরব ভালোবাসার কষ্টের শায়েরি

নীরবে ভালোবেসে গেলাম
তোমায় সারাজীবন ধরে,
তুমি তো অন্য কাউকে
ঠাঁই দিলে অন্তরে।

মুখ ফুটে বলিনি কখনো
ভালোবাসি কতটা,
নীরব চোখের জলে লুকিয়েছিল
ভালোবাসার সমতা।

নীরবে তোমায় চেয়েছিলাম
আমার কেবল নিজের করে,
আজ তুমি কত দূরে
অন্য কারো হাত ধরে।

দূর থেকে দেখে যাওয়া আর
নীরবে শুধু ভালোবাসা,
এভাবেই শেষ হয়ে গেল
আমার সকল আশা।

ভালোবেসে নীরব থাকা যে
কত যে কঠিন সাজা,
যে সয়েছে এই বিষাদ
সে-ই জানে এর মজা।

তুমি ছিলে আমার মনের
গোপন সুন্দর এক স্বপ্ন,
নীরব ভালোবাসায় ছিলাম
সদা আমি মগ্ন।

শব্দ দিয়ে তো সবাই
ভালোবাসার প্রকাশ করে,
আমি না হয় রবো নীরব
তোমায় হৃদয়ে ধরে।

নীরব ভালোবাসার কষ্ট
বড় বিষাক্ত হয়,
না যায় কাহাকে বলা
না তো সওয়া যায়।

তোমার প্রতি টান ছিল
একতরফা ও নীরব,
তাই তো ভেঙে চুরমার
আমার সকল গৌরব।

একবার চেয়ে দেখতে যদি
আমার এই চোখের পানে,
নীরব ভালোবাসা বুঝতেই
মনের নিবিড় টানে।

আমার ভালোবাসা ছিল
শান্ত নদীর মতো,
বিনিময়ে পেয়ে গেলাম
নীরব কষ্ট শত।

নীরবে তোমায় ভেবেই
কেটে যায় শত প্রহর,
আমার বুকের ভেতর বসে
কষ্টের এক বিশাল শহর।

যে ভালোবাসা মুখ ফুটে
কখনো বলা হয় না,
সেই ভালোবাসার কষ্ট
আর তো সহ্য হয় না।

তুমি তো বুঝলে না আমার
একলা মনের ডাক,
নীরব ভালোবাসার স্মৃতি
হৃদয়ে জমা থাক।

নীরব ভালোবাসার যন্ত্রণা
বড়ই ভারী ভাই,
অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে
কিছু তো করার নাই।

চুপচাপ তোমায় দেখে
ভেবেছি কত কিছু,
নীরব ভালোবাসা নিয়ে
হেঁটেছি তোর পিছু।

নীরব ভালোবাসার কোনো
দাবি থাকে না তো ভাই,
নিজের ভালোবাসায় নিজেকে
পুড়িয়ে করি ছাই।

আমার নীরব ভালোবাসাকে
অবহেলা ভাবলে,
অন্য কারো হাত ধরে
আমায় তুমি হারালে।

কখনো যদি মনে পড়ে
এই নীরব পথিকের কথা,
বুঝে নিও নীরব প্রেমে
কতটা ছিল ব্যথা।

নীরব ভালোবাসার কান্না
শুনবে না তো কেউ,
বুকের ভেতর আছড়ে পড়ে
বিষাদের বড় ঢেউ।

শেষ কথা

নীরবতা, অভিমান আর ভালোবাসার কিছু অনুভূতি কখনো ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। আশা করি, এই কবিতা, ছন্দ ও শায়েরিগুলোর মধ্যে আপনি নিজের মনের কিছু না-বলা কথা খুঁজে পেয়েছেন।

আপনার কাছে কোন কবিতা বা শায়েরিটি সবচেয়ে ভালো লেগেছে? কমেন্টে জানাতে পারেন। ভালো লাগলে লেখাটি বন্ধুদের সঙ্গেও শেয়ার করুন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *