| |

১৫০+ পান নিয়ে কবিতা, ছন্দ, শায়েরি ও ধাঁধা

গ্রামবাংলার পানের বাটা আর বিকেলের এক কাপ চা—দুটির সঙ্গেই জড়িয়ে আছে বাঙালির ঐতিহ্য, স্মৃতি ও ভালোবাসা। পান-সুপারির আতিথেয়তা থেকে চায়ের আড্ডা, সবকিছু নিয়ে সাজানো হয়েছে এই বিশেষ আয়োজন। এর আগে আমাদের পান নিয়ে উক্তি, ক্যাপশন, স্ট্যাটাস ও কবিতা বিষয়ক লেখাটি পড়ে পানের ঐতিহ্য সম্পর্কে জেনেছেন। আজ থাকছে পান ও চা নিয়ে চার লাইনের ছোট কবিতা, ছন্দ, বাংলা শায়েরি, গ্রামবাংলার স্মৃতি এবং মজার সব ধাঁধা।

পান নিয়ে কবিতা

পানের বাটায় যত্ন ভরা,
স্মৃতির পাতায় ছবি আঁকা।
দাদির হাতে পানের খিলি,
শৈশব স্মৃতি মিষ্টি-রঙিলি।

সবুজ পাতায় চুনের ছোঁয়া,
পুরোনো দিনের গল্প বলা।
পান-সুপারির মিষ্টি সাজ,
ঐতিহ্য বাঁচুক সকাল-সাঁঝ।

পানের খিলি হাতে নিয়ে,
গল্প করি আপন হয়ে।
হাসি মাখা সেই বিকেল,
স্মৃতিতে থাকে সারাবেল।

পানের বরজ সবুজ ঘেরা,
বাংলার ছবি মায়ায় ভরা।
পাতায় পাতায় রোদের খেলা,
প্রকৃতি যেন স্বপ্নের মেলা।

রুপোলি বাটায় পানের সাজ,
মনে পড়ে পুরোনো আজ।
দাদুর পাশে গল্প শুনি,
স্মৃতির ভেতর হারিয়ে যাই।

পানের পাতায় শিশির ঝরে,
গ্রামের সকাল হৃদয় ভরে।
মাটির গন্ধ বাতাসে ভাসে,
বাংলার ছবি মনে আসে।

পানের থালায় আদর মাখা,
ভালোবাসার স্মৃতি আঁকা।
অতিথি এলে হাসিমুখে,
আপ্যায়ন হয় পরম সুখে।

হাটের মাঝে পানের দোকান,
মানুষের ভিড়ে মুখর প্রাণ।
কেনাবেচার ফাঁকে ফাঁকে,
গ্রামের গল্প জমে থাকে।

পানের পাতায় সবুজ রং,
বাংলার মাটির মায়াবী ঢং।
সময় বদলায়, বদলায় গান,
তবু হৃদয়ে রয়ে যায় পান।

দাদির বাটায় পানের খিলি,
স্মৃতিরা সব মিষ্টি-রঙিলি।
উঠোনজুড়ে সন্ধ্যার আলো,
সেই দিনগুলো লাগত ভালো।

পানের বরজে বাতাস বয়,
সবুজ পাতায় আনন্দ রয়।
কৃষকের হাতে যত্ন পায়,
বাংলার সৌন্দর্য ফুটে যায়।

পান-সুপারির পুরোনো রীতি,
প্রজন্মজুড়ে মধুর স্মৃতি।
আপনজনের মিলনমেলা,
গল্পে কাটে সুখের বেলা।

পানের বাটায় স্নেহের ছোঁয়া,
আপন মানুষ কাছে পাওয়া।
ছোট্ট এই আয়োজন,
জুড়িয়ে দেয় সবার মন।

পানের পাতা সবুজ ভরা,
গ্রামের জীবন সহজ-সরল।
মেঠো পথে সকালের গান,
বাংলার বুকে চিরচেনা পান।

পানের ঝুড়ি মাথায় নিয়ে,
মানুষ চলে বাজারে গিয়ে।
পরিশ্রমে কাটে দিন,
স্বপ্ন থাকে রঙিন।

পানের থালায় সাজানো পাতা,
ঐতিহ্যের মধুর গাথা।
বাংলার ঘরে ঘরে টান,
স্মৃতির নামটি যেন পান।

পানের ঘ্রাণে উঠোন ভরে,
শৈশব ফিরে স্মৃতির ঘরে।
পুরোনো দিনের মায়ার টান,
মনে জাগায় কত গান।

পানের বাটায় গল্প জমে,
সন্ধ্যা নামে ধীরে ধীরে।
আপনজনের হাসির মাঝে,
সুখের স্মৃতি হৃদয় সাজে।

বাংলার এই পানের টান,
লোকজ সংস্কৃতির প্রাণ।
যত্ন করে রাখি স্মৃতি,
বেঁচে থাকুক ঐতিহ্য-প্রীতি।

চা-পান নিয়ে কবিতা

ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা,
মনটা বলে, একটু থামো না।
সকালের মিষ্টি রোদ,
দূরে যাক সব অবসাদ।

বিকেলবেলার চায়ের আড্ডা,
গল্পে জমে হাসির ছড়া।
বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটে,
সুখের স্মৃতি হৃদয় আঁটে।

বৃষ্টি পড়ে টিনের চালে,
চায়ের কাপে মনটা দোলে।
মেঘের আড়ালে দিনের আলো,
চায়ের বিকেল লাগে ভালো।

এক কাপ চা, পাশে বই,
নিরিবিলি সময় কই!
পাতায় পাতায় গল্প পড়ি,
নিজের জগতে ডুবে থাকি।

টং দোকানে চায়ের ভাঁড়,
বন্ধুদের গল্প বারবার।
হাসি-ঠাট্টায় সন্ধ্যা কাটে,
আনন্দ জমে চায়ের সাথে।

শীতের সকালে কুয়াশা ঘেরা,
গরম চায়ে মনটা ভরা।
ঠান্ডা হাওয়া ধীরে বয়,
চায়ের উষ্ণতা ভালোই হয়।

আদা চায়ের মিষ্টি ঘ্রাণ,
বিকেলজুড়ে জুড়ায় প্রাণ।
কাজের মাঝে ছোট্ট বিরতি,
ফিরে আসে নতুন গতি।

চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে,
অলস সময় দূরে ছোটে।
নতুন দিনের স্বপ্ন আঁকি,
নিজের কাছে কথা রাখি।

সন্ধ্যা নামে ধীরে ধীরে,
চায়ের কাপটি হাতের নীড়ে।
আপনজনের মিষ্টি কথা,
ভুলিয়ে দেয় দিনের ব্যথা।

দুধ চায়েতে মিষ্টি স্বাদ,
আড্ডা ভোলায় মনের বিষাদ।
বন্ধু পাশে বসে রয়,
ছোট্ট সুখেই আনন্দ হয়।

চায়ের কাপে বৃষ্টির গান,
জানালাতে মেঘের টান।
বাইরে ঝরে বৃষ্টির জল,
ঘরের ভেতর শান্তি অফুরান।

সকালে চা, সন্ধ্যায় চা,
পছন্দ হলে চাই-ই চাই।
চায়ের কাপে গল্প বুনি,
বন্ধুর মনের কথা শুনি।

ব্যস্ত দিনে চায়ের বিরতি,
এনে দেয় একটু প্রশান্তি।
আবার কাজে ফিরি,
নতুন উদ্যমে পথ চলি।

চায়ের দোকান রাস্তার ধারে,
আড্ডা জমে সবার মাঝে।
ছোট্ট বেঞ্চি, চায়ের কাপ,
গল্প ভুলিয়ে দেয় সব চাপ।

মাটির ভাঁড়ে গরম চা,
এমন স্বাদ ভোলা কি যায়!
ধোঁয়ার সাথে গল্প ভাসে,
মনটা থাকে আপন খেয়ালে।

চায়ের ঘ্রাণে সকাল হাসে,
নতুন আশা হৃদয়ে ভাসে।
জানালা দিয়ে রোদ আসে,
ভালো লাগা মনে বসে।

এক কাপ চা, মিষ্টি হাওয়া,
দিনের মাঝে একটু পাওয়া।
শান্ত বিকেল, নরম আলো,
এমন সময় লাগে ভালো।

চায়ের কাপে সন্ধ্যা নামে,
মনটা থাকে আপন খেয়ালে।
গল্পগুলো জমে যায়,
সময় কখন কেটে যায়!

বন্ধু পাশে, চায়ের কাপ,
গল্পে উধাও দিনের চাপ।
হাসির মাঝে সন্ধ্যা কাটে,
স্মৃতি জমে হৃদয়পটে।

চায়ের কাপে ছোট্ট সুখ,
হাসি ফুটুক সবার মুখ।
ব্যস্ত জীবন থামুক ক্ষণ,
ভালো থাকুক আপনজন।

পান নিয়ে গ্রামবাংলার কবিতা

গ্রামের পথে পানের বরজ,
সবুজ পাতায় প্রকৃতির সাজ।
সকালের রোদ পাতায় পড়ে,
মাটির গন্ধ বাতাসে ভরে।

দাদির বাটা উঠোনজুড়ে,
শৈশব আসে স্মৃতি ধরে।
পানের খিলি সাজানো থালা,
সেই দিনগুলো বড়ই ভালো লাগা।

হাটের মাঝে পানের ঝুড়ি,
গ্রামের ছবি মায়ায় ঘেরা।
কেনাবেচার ব্যস্ততা,
মানুষের মাঝে আন্তরিকতা।

পানের বরজে সকালের আলো,
সবুজ পাতায় লাগে ভালো।
কৃষক যত্নে গাছটি রাখে,
পরিশ্রমের গল্প থাকে।

মাটির ঘরে পানের থালা,
অতিথি এলে হাসির জোয়ার।
সহজ জীবনের মিষ্টি টান,
গ্রামবাংলার চেনা প্রাণ।

পানের পাতায় শিশির জমে,
গ্রামের সকাল মিষ্টি নামে।
পাখির ডাকে ঘুম যে ভাঙে,
সবুজ প্রকৃতি মনকে টানে।

বাঁশের খুঁটিতে পানের লতা,
সবুজ পাতায় গ্রামের কথা।
বাতাস এসে দোলায় ডাল,
প্রকৃতি সাজে সকালবেলা।

পানের দোকান গ্রামের হাটে,
চেনা মানুষ গল্প আঁটে।
কেনাবেচার ফাঁকে ফাঁকে,
পুরোনো স্মৃতি জেগে থাকে।

পানের বাটায় দাদির হাত,
গল্পে কাটে সন্ধ্যা রাত।
উঠোনজুড়ে জোনাক জ্বলে,
শৈশব ফিরে স্মৃতির কোলে।

মেঠো পথে পানের ঝুড়ি,
গ্রামের ছবি বড়ই মধুর।
শ্রমের মাঝে স্বপ্ন আঁকা,
মাটির টানে জীবন রাখা।

পানের বরজে বাতাস বয়,
সবুজ পাতায় আনন্দ রয়।
কৃষকের ঘামে ফসল ফলে,
সুখের আশা হৃদয় দোলে।

অতিথি এলে পান সাজানো,
হাসিমুখে কাছে টানা।
গ্রামবাংলার পুরোনো রীতি,
হৃদয়জুড়ে মধুর স্মৃতি।

পানের পাতা সবুজ রঙে,
গ্রামের সকাল নতুন ঢঙে।
রোদ-বাতাসে বরজ দোলে,
প্রকৃতি যেন কথা বলে।

পানের থালা ঘরের কোণে,
স্মৃতি জমে আপন মনে।
দাদুর গল্প, দাদির হাসি,
সেই দিনগুলো বড়ই খাঁটি।

গ্রামের পথে সকালের গান,
ঝুড়ি ভরা তাজা পান।
বাজারমুখী মানুষের ভিড়,
পরিচিত জীবন, পরিচিত নীড়।

উঠোনজুড়ে রোদের খেলা,
পানের সাজে মায়ার মেলা।
আপনজনের হাসি মুখে,
গ্রামবাংলা ভরে সুখে।

পানের পাতায় বৃষ্টির জল,
সবুজ রঙে ঝিলমিল।
মেঘের দিনে গ্রামের পথ,
মনে জাগায় মধুর শপথ।

গ্রামের হাওয়া, পানের ঘ্রাণ,
মাটির টানে ভরে প্রাণ।
দূরে থাকি যতই আমি,
গ্রামকে ভুলতে পারি না আমি।

পানের বাটায় স্নেহের ছোঁয়া,
আপন মানুষ কাছে পাওয়া।
গ্রামের এই সহজ জীবন,
ভালোবাসায় ভরা মন।

বাংলার মাটি, পানের বরজ,
প্রকৃতির এক সবুজ সাজ।
ঐতিহ্যকে ভালোবেসে,
রাখি স্মৃতির পাতায় হেসে।

পান নিয়ে ছন্দ

পানের পাতা সবুজ,
স্মৃতিগুলো অবুঝ।
পানের খিলি হাতে,
গল্প জমে রাতে।

এক খিলি পান,
ঐতিহ্যের টান।
বাটায় সাজাই,
অতিথি আপ্যায়ন চাই।

পানের বাটা সাজে,
আনন্দ ঘরে বাজে।
আপনজনের হাসি,
ভালোবাসা খাঁটি।

পান-সুপারির মেলা,
আনন্দে কাটে বেলা।
গল্প করি সবাই,
সুখের তুলনা নাই।

পানের পাতায় শিশির,
সকাল লাগে স্নিগ্ধ।
সবুজ বরজ ঘিরে,
মনটা যায় ফিরে।

পানের খিলি হাতে,
স্মৃতি আসে রাতে।
দাদির মিষ্টি হাসি,
আজও ভালোবাসি।

পানের বাটায় আদর,
অতিথির সমাদর।
হাসিমুখে ডাকি,
ভালোবাসা রাখি।

সবুজ পাতার গান,
বাঙালিরই প্রাণ।
ঐতিহ্যকে ঘিরে,
স্মৃতি থাকে ফিরে।

পানের ঘ্রাণ ভাসে,
শৈশব মনে আসে।
পুরোনো দিনের টান,
ভুলব না সেই পান।

পানের থালা সাজাই,
অতিথিকে কাছে পাই।
ভালোবাসার রীতি,
অমলিন তার স্মৃতি।

পানের বরজ সবুজ,
প্রকৃতি বড়ই মনোজ্ঞ।
পাতায় পাতায় ছায়া,
গ্রামবাংলার মায়া।

পানের খিলি ছোট,
ঐতিহ্যের জোট।
বাটায় রেখে দাও,
অতিথিকে খাওয়াও।

পানের পাতা দোলে,
বাতাস মিষ্টি চলে।
সবুজ মাঠের গান,
বাংলারই প্রাণ।

পান-সুপারি পাশে,
গল্প মনে আসে।
হাসির মিষ্টি রেশ,
দিনটা কাটুক বেশ।

পানের বাটা ঘরে,
স্মৃতি জাগে মনে।
দাদির স্নেহভরা,
দিনগুলো মায়ায় ঘেরা।

পানের সাজে যতন,
আনন্দে ভরে মন।
অতিথি এলে ঘরে,
ভালোবাসা ঝরে।

পানের পাতায় রং,
বাংলার মিষ্টি ঢং।
ঐতিহ্যকে মানি,
শেকড়কে জানি।

পানের খিলি দাও,
মিষ্টি হাসি পাও।
আপনজনের টান,
ভরিয়ে দেয় প্রাণ।

পানের আয়োজন,
আপনজনের মিলন।
সুখের স্মৃতি নিয়ে,
চলি ভালোবেসে।

বাংলারই পান,
ঐতিহ্যের সম্মান।
স্মৃতিতে তার ঠাঁই,
ভুলতে পারি নাই।

পান-সুপারি নিয়ে ছন্দ

পান আর সুপারি,
ঐতিহ্যের বাড়ি।
সাজানো থালা,
অতিথির ভালো লাগা।

পানের পাতায় সুপারি,
সাজটি বড় ভারী।
বাটায় রেখে দাও,
অতিথিকে খাওয়াও।

পান-সুপারির সাজ,
আপ্যায়নের কাজ।
হাসিমুখে ডাকি,
ভালোবাসা রাখি।

পানের বাটায় সুপারি,
স্মৃতির কথা ভারী।
দাদির হাতে সাজ,
শৈশব মনে আজ।

পান-সুপারির থালা,
আপনজনের ভালো লাগা।
গল্পে কাটে বেলা,
আনন্দেরই মেলা।

সুপারি আর পান,
লোকজ সংস্কৃতির টান।
প্রজন্ম ধরে রীতি,
হৃদয়জুড়ে স্মৃতি।

পানের পাতায় সুপারি,
সাজানো থালা ভারী।
অতিথি এলে ঘরে,
আনন্দ নামে পরে।

পান-সুপারির রীতি,
প্রজন্মজুড়ে স্মৃতি।
বাংলার ঘরে ঘরে,
ঐতিহ্য আপন করে।

সুপারি কুচি পাশে,
পুরোনো গল্প আসে।
পানের বাটায় টান,
মাটির কাছের প্রাণ।

পান সাজানো থালা,
আপনজনের ভালো লাগা।
সুপারি তার পাশে,
স্মৃতি হৃদয়ে ভাসে।

পানের সঙ্গে সুপারি,
পরিচিত ছবি ভারী।
পুরোনো দিনের টান,
বাঙালিরই প্রাণ।

পান-সুপারির মেলা,
গল্পে কাটে বেলা।
হাসি আর আনন্দ,
সম্পর্ক করে বন্ধ।

সুপারি আর পান,
গ্রামবাংলার গান।
মাটির ঘ্রাণ মেখে,
স্মৃতি রাখি বুকে।

পানের বাটায় সুপারি,
আপ্যায়নের প্রস্তুতি।
অতিথি এলে ঘরে,
আনন্দ আসে ভরে।

পান-সুপারির থালা,
ঐতিহ্যের ছবি আঁকা।
যত্ন করে রাখি,
শেকড়কে ভালোবাসি।

পানের পাতা সবুজ,
সুপারি তার সঙ্গী।
সাজানো সেই থালা,
বাঙালির ভালো লাগা।

পানের সাজে যতন,
অতিথির সম্মান।
সুপারি পাশে রেখে,
গল্প করি হেসে।

সুপারি কুচি পান,
বাংলার পুরোনো টান।
স্মৃতিরা সব জাগে,
ভালোবাসা লাগে।

পান-সুপারির থালা,
ঘরকে করে আলো।
আন্তরিকতার ছোঁয়া,
আপন করে পাওয়া।

পানের সঙ্গে সুপারি,
গ্রামবাংলার স্মৃতি ভারী।
ঐতিহ্যের গান,
বাঙালিরই প্রাণ।

পান নিয়ে বাংলা শায়েরি

পানের পাতায় সবুজ মায়া,
স্মৃতির মাঝে গ্রামের ছায়া।
পানের বাটায় ভালোবাসা,
ঐতিহ্যেই মনের আশা।

পানের বাটায় যত্নের ছোঁয়া,
আপনজনের কাছে পাওয়া।
ছোট্ট এই আয়োজন,
ছুঁয়ে যায় সবার মন।

এক খিলি পান, পুরোনো গান,
স্মৃতির ভেতর বাঙালির প্রাণ।
দাদির হাসি মনে পড়ে,
শৈশব ফিরে আসে ঘরে।

পানের পাতায় ঐতিহ্যের রং,
বাংলার মাটিতে মায়াবী ঢং।
সময় বদলায়, বদলায় দিন,
স্মৃতিগুলো থাকে রঙিন।

দাদির বাটায় পানের সাজ,
মনে পড়ে শৈশব আজ।
সেই উঠোন আর গল্পের ক্ষণ,
আজও ছুঁয়ে যায় আমার মন।

পানের ঘ্রাণে ভরে উঠোন,
স্মৃতিরা সব আপনজন।
পুরোনো দিনের মায়ার টান,
হৃদয়ে বাজায় মধুর গান।

সবুজ পাতায় গ্রামের টান,
পানের মাঝে বাংলার প্রাণ।
দূরে থেকেও মনে পড়ে,
শেকড় ডাকে আপন ঘরে।

পানের থালায় আদর রাখা,
ভালোবাসার ছবি আঁকা।
অতিথি এলে হাসিমুখে,
হৃদয় ভরে আপন সুখে।

পানের বাটায় গল্প জমে,
সন্ধ্যা নামে ধীরে ধীরে।
দাদুর কথা, দাদির হাসি,
স্মৃতির পাতায় ভালোবাসি।

পানের পাতায় শিশির ঝরে,
গ্রামের ছবি হৃদয় ভরে।
মাটির গন্ধ, সবুজ প্রাণ,
বাংলার মায়ায় জুড়ায় প্রাণ।

পান-সুপারির পুরোনো রীতি,
হৃদয়জুড়ে মধুর স্মৃতি।
সময় যত দূরে যাক,
শেকড় যেন কাছে থাক।

পানের বরজ সবুজ ঘেরা,
বাংলার রূপ মায়ায় ভরা।
সেই মাটির টান,
ভুলতে পারে না প্রাণ।

পানের খিলি ছোট্ট সাজ,
ঐতিহ্যের পরিচয় আজ।
বাঙালির এই মাটির গান,
হৃদয়জুড়ে অমলিন পান।

পানের পাতায় মাটির ঘ্রাণ,
শেকড়ের টানে ভরে প্রাণ।
দূর আকাশে থাকি যেথায়,
গ্রামের স্মৃতি ফিরে বেড়ায়।

পানের বাটায় স্নেহের ছোঁয়া,
আপন মানুষ কাছে পাওয়া।
পুরোনো সেই দিনের কথা,
মুছে দেয় মনের ব্যথা।

পানের দোকান, গ্রামের হাট,
স্মৃতির পথে চেনা ঘাট।
পরিচিত মুখ, চেনা গান,
মন জুড়িয়ে দেয় সেই পান।

পানের থালায় সবুজ পাতা,
ঐতিহ্যের মধুর গাথা।
বাংলার ঘরে ভালোবাসা,
এই তো শেকড়, এই তো আশা।

পানকে ঘিরে গল্প যত,
বাংলার স্মৃতি অমলিন শত।
প্রজন্ম পেরিয়ে থাকুক টান,
ঐতিহ্যের নামটি পান।

পানের পাতায় বাংলার গান,
ঐতিহ্যে ভরে বাঙালির প্রাণ।
মাটির টানে হৃদয় বাঁধা,
স্মৃতির পথে নেই কোনো বাধা।

পানের স্মৃতি রয়ে যায়,
পুরোনো দিনের কথা শোনায়।
সময় চলে আপন পথে,
ঐতিহ্য থাকুক হৃদয়জুড়ে।

পান নিয়ে ধাঁধা

সবুজ আমার গায়ের রং,
চুন-সুপারিতে সাজে অঙ্গ।
অতিথি এলে কদর পাই,
বলো তো আমি কে ভাই?
উত্তর: পান।

ছোট্ট পাতা, ভাঁজে সাজ,
বাটায় থাকে আমার বাস।
অতিথির থালায় দেখা মেলে,
নামটি বলো ভেবে ফেলে।
উত্তর: পানের খিলি।

শক্ত আমি, কুচি করে কাটে,
পানের সঙ্গে থাকি থালাতে।
জাঁতির সঙ্গে পরিচয়,
বলো তো আমার নাম কী হয়?
উত্তর: সুপারি।

সাদা রঙে আমার পরিচয়,
পানের পাতায় আমার ছোঁয়।
পান সাজাতে লাগে আমায়,
বলো তো কে চিনতে আমায়?
উত্তর: চুন।

রুপোলি গায়ে সুন্দর সাজ,
পানের খিলি রাখার কাজ।
দাদির ঘরে দেখা যায়,
বলো তো আমার নাম কী হয়?
উত্তর: পানের বাটা।

গাছের গায়ে সবুজ পাতা,
লতায় ভরা আমার খাতা।
যত্ন করে বড় করে,
বলো তো আমি কী রে?
উত্তর: পান গাছ।

পানের সঙ্গে থাকি আমি,
রঙে গাঢ়, পরিচয় নামি।
কিছু পানে ব্যবহার হয়,
বলো তো আমার নাম কী হয়?
উত্তর: জর্দা।

পানের সঙ্গে কুচি হয়ে,
বাটির মাঝে থাকি গিয়ে।
শক্ত শরীর, ছোট্ট আকার,
বলো তো নামটি আমার?
উত্তর: সুপারি।

সবুজ পাতার ছোট্ট ঘর,
সাজিয়ে রাখে যত্ন করে।
চুন-সুপারি পেলে পরে,
খাওয়ার জন্য ভাঁজটি ধরে।
উত্তর: পানের খিলি।

গ্রামের হাটে ঝুড়ি ভরা,
সবুজ পাতায় সাজানো সারা।
চাষির ঘামে বড় হই,
বলো তো আমি কে হই?
উত্তর: পান।

পাতার মাঝে সাদা ছোঁয়া,
পান সাজাতে লাগে নেওয়া।
অল্প করে মাখায় গায়,
নামটি বলো সবাই আমায়।
উত্তর: চুন।

কাটতে গেলে লাগে যন্ত্র,
রান্নার কাজে নই যে কেন্দ্র।
পান সাজাতে আমাকে চায়,
বলো তো কী নাম হয়?
উত্তর: সুপারি কাটার জাঁতি।

বিয়ের বাড়ি সাজে থালা,
অতিথি পেলে আনন্দ জ্বালা।
পান-সুপারি থাকে তাতে,
বলো তো কী নাম তার সাথে?
উত্তর: পানের থালা।

সবুজ লতা গাছে ওঠে,
পাতা তার বাতাসে ছোটে।
বরজজুড়ে থাকে সারি,
বলো তো নামটি তারই?
উত্তর: পানের লতা।

পানের সঙ্গে আমার যোগ,
কিছু পানে আনি মিষ্টি ভোগ।
সুগন্ধে মন ভালো হয়,
বলো তো আমার নাম কী হয়?
উত্তর: এলাচ।

ছোট্ট দানা, সুগন্ধ ভরা,
পানের মাঝে থাকি ধরা।
মসলা পানে দেখা পাই,
বলো তো আমি কে ভাই?
উত্তর: লবঙ্গ।

সবুজ পাতা বাজারে যায়,
ঝুড়ির ভেতর সাজানো হয়।
চাষির হাতে যত্ন পাই,
বলো তো আমি কে ভাই?
উত্তর: পান।

পানের খিলি রাখি ঘরে,
দাদি আমায় যত্ন করে।
কখনো ধাতু, কখনো কাঠ,
বলো তো আমি কীসের পাত্র?
উত্তর: পানের বাটা।

গাছে জন্ম, ফল নই আমি,
সবুজ পাতায় পরিচয় নামি।
পানের বরজে আমার বাস,
বলো তো কী আমার আভাস?
উত্তর: পানের পাতা।

ছোট্ট পাতা, ভাঁজের সাজ,
লোকজ রীতিতে আমার কাজ।
পান-সুপারি মেলে যার,
বলো তো নামটি তার?
উত্তর: পানের খিলি।

শেষ কথা

পান ও চা বাঙালির দৈনন্দিন জীবন, গ্রামবাংলার স্মৃতি এবং সামাজিক আড্ডার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। পানের বাটা থেকে চায়ের কাপ—এই পরিচিত অনুষঙ্গগুলো আমাদের লোকজ সংস্কৃতির নানা গল্প মনে করিয়ে দেয়। আশা করি, পান ও চা নিয়ে ছোট কবিতা, ছন্দ, শায়েরি এবং ধাঁধার এই আয়োজন আপনাদের ভালো লাগবে।

এই লেখার কোন কবিতা, ছন্দ কিংবা ধাঁধাটি আপনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে? আপনার শৈশবের পানের বাটা, গ্রামের হাট কিংবা বিকেলের চায়ের আড্ডা নিয়ে কোনো মধুর স্মৃতি থাকলে কমেন্টে জানাতে পারেন। ভালো লাগলে লেখাটি বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করুন এবং এমন আরও বাংলা কবিতা, ক্যাপশন ও ছন্দ পড়তে CaptionIdeas.com-এর সঙ্গে থাকুন।

Similar Posts

One Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *