পছন্দ নিয়ে উক্তি, ক্যাপশন ও পছন্দের মানুষের জন্য চিঠি

মানুষের পছন্দ সবার সঙ্গে মিলবে, এমন কোনো কথা নেই। কেউ দামি জিনিসে সুখ খোঁজে, কেউ আবার রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে বসেই শান্তি পায়। কারও পছন্দের মানুষ তার চোখের মণি, আবার কারও অপছন্দের মানুষ দেখলেই মেজাজ গরম হয়ে যায়। পছন্দ, অপছন্দ, অপবাদ আর মনের মানুষের প্রতি অনুভূতি নিয়ে সাজানো হয়েছে এই লেখাগুলো। এখানে পাবে পছন্দ নিয়ে উক্তি, পছন্দের জিনিস নিয়ে ক্যাপশন, নিজের পছন্দের কথা এবং প্রিয় মানুষকে মনের কথা জানানোর জন্য পাঁচটি চিঠি।

পছন্দ নিয়ে উক্তি

নিজের পছন্দে বাঁচতে শেখো, মানুষের কথায় চললে একদিন নিজের পরিচয়টাই হারিয়ে ফেলবে।

আমার পছন্দ সবার ভালো লাগবে না, আর আমি তো সবার মন জয়ের ঠিকাও নিইনি।

মানুষ কী বলবে, সেই চিন্তায় নিজের সুখ নষ্ট করার চেয়ে বোকা সাজাও ভালো।

সবার পছন্দের মানুষ হওয়ার চেয়ে নিজের পছন্দের মানুষ হয়ে থাকাটা অনেক শান্তির।

পছন্দের জিনিসের দাম সবাই বোঝে না, কিছু জিনিসের মূল্য শুধু মন জানে।

আমার পছন্দ একটু আলাদা, তাই বলে আমার রুচির বিচার বসানোর দরকার নেই।

পছন্দের মানুষকে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার, আর তাকে বুঝতে পারা ভালোবাসার ব্যাপার।

যার নিজের কোনো পছন্দ নেই, সে অন্যের কথায় নিজের জীবন সাজায়।

ট্রেন্ড বদলায়, ফ্যাশন বদলায়, কিন্তু মনের কিছু পছন্দ পুরোনো হয়েও প্রিয় থাকে।

সবার চোখে সুন্দর হতে চাই না, নিজের চোখে ভালো থাকাটাই যথেষ্ট।

পছন্দের জিনিস হারালে কষ্ট হয়, কিন্তু অপছন্দের জীবন কাটানো আরও কষ্টের।

নিজের পছন্দ নিয়ে লজ্জা নেই, লজ্জা তো অন্যের মন রাখতে গিয়ে নিজেকে হারানোয়।

আমার ভালো লাগার কারণ তোমার কাছে অদ্ভুত হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে সেটাই আনন্দ।

জীবনে টাকা দরকার, তবে টাকায় সব পছন্দের অনুভূতি কেনা যায় না।

পছন্দের মানুষটা পাশে থাকলে সাধারণ দিনও উৎসবের মতো লাগে।

সব সুন্দর জিনিস ভালো লাগে না, আবার কিছু সাধারণ জিনিসও ভীষণ আপন হয়ে যায়।

পছন্দের তালিকা ছোট হতে পারে, কিন্তু ভালো লাগার গভীরতা মাপার কোনো যন্ত্র নেই।

নিজের রুচি নিয়ে বাঁচো, মানুষের মন্তব্য দিয়ে জীবন সাজালে শান্তি পাবে না।

ভুল মানুষকে পছন্দ করাও একটা অভিজ্ঞতা, অন্তত পরেরবার চিনতে সুবিধা হয়।

পছন্দের জীবন মানে নিখুঁত জীবন নয়, নিজের মতো করে সুখে থাকার নামই জীবন।

পছন্দের জিনিস নিয়ে ক্যাপশন

আমার পছন্দের জিনিসটা সবার কাছে সাধারণ হতে পারে, কিন্তু আমার কাছে এর কদর রাজকীয়।

দুনিয়া যতই ব্যস্ত থাকুক, পছন্দের জিনিস সামনে এলে আমার ব্যস্ততাও ছুটি নেয়।

মন খারাপের দিনে এই ছোট্ট জিনিসটাই হাসায়, অথচ দামী দামী উপদেশও পারে না।

দাম দিয়ে সবকিছুর মূল্য মাপা যায় না, কিছু জিনিসের দাম হৃদয়ের কাছে জমা থাকে।

আমার পছন্দ নিয়ে হাসার আগে নিজের পছন্দের তালিকাটা একবার দেখে নিয়ো।

এই জিনিসটা কাছে থাকলে মন ভালো থাকে, ডাক্তারও এখনো এর প্রেসক্রিপশন লেখেননি।

আমার ছোট্ট পছন্দের জগতে ঢুকতে অনুমতি লাগে, তবে চা খাওয়ালে বিবেচনা করা যাবে।

সবাই বিলাসিতা খোঁজে, আমি খুঁজি এমন কিছু যা দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়।

আমার পছন্দের জিনিসটা পুরোনো হলেও সমস্যা নেই, নতুন জিনিসের চেয়ে এর মায়া বেশি।

কিছু জিনিস কিনে আনা যায়, কিন্তু সেগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অনুভূতি কেনা যায় না।

এই ছোট্ট পছন্দটার জন্য মন যতটা খুশি হয়, মাসের বেতনও ততটা পারে না।

পছন্দের জিনিস সামনে থাকলে সময় কোথায় যায় বুঝি না, শুধু পকেটের হিসাবটা মনে থাকে।

আমার ভালো লাগার জিনিস নিয়ে বেশি প্রশ্ন কোরো না, উত্তর দিতে গেলেই গল্প লম্বা হবে।

ছোট্ট একটা পছন্দ, অথচ মন ভালো করার ক্ষমতা দেখে মনে হয় বড় কোনো পদে আছে।

আমার জগতটা খুব বড় নয়, তবে এখানে আমার পছন্দের জিনিসগুলোর রাজত্ব চলে।

কিছু জিনিসের প্রতি মায়া এমন, বদলে দিতে বললেও মন রাজি হয় না।

আমার পছন্দের জিনিসটা দেখলে হাসি আসে, আর দাম জিজ্ঞেস করলে হাসিটা একটু কমে যায়।

পছন্দের জিনিস কাছে রাখার আলাদা শান্তি আছে, যদিও পরিবারের কাছে সেটার কোনো যুক্তি নেই।

আমার ভালো লাগার হিসাব অন্যের কাছে অদ্ভুত, কিন্তু নিজের কাছে একদম পরিষ্কার।

পছন্দের জিনিস নিয়ে সুখে আছি, দুনিয়ার বিচারকরা চাইলে আপিল করতে পারেন।

অপছন্দ নিয়ে ক্যাপশন

মিষ্টি কথা বলে পেছনে ছুরি মারার চেয়ে মুখের ওপর সত্যি বলো, তাতে অন্তত মানুষ চেনা যায়।

আমার নীরবতাকে দুর্বলতা ভেবো না, সব ঝামেলায় নামার মতো সময় আমার নেই।

অপছন্দের মানুষকে সহ্য করার অভিনয় করি না, আমি অভিনেতা নই যে পুরস্কার জিততে হবে।

অকারণে ভাব নেওয়া মানুষ আমার অপছন্দ, যেন তাদের সঙ্গে কথা বলতে টিকিট লাগে।

সবাইকে খুশি করতে গেলে নিজের মেজাজের জানাজা পড়ে যাবে, তাই নিজের শান্তিকেই আগে রাখি।

মিথ্যা বলা মানুষকে অপছন্দ করি, বিশেষ করে যারা মিথ্যা বলেও নিজেকে সাধু ভাবে।

আমার অপছন্দের তালিকা ছোট, তবে সেখানে ঢুকলে বের হওয়ার রাস্তা একটু কঠিন।

জোর করে ভালোবাসা আদায় করা যায় না, শুধু মানুষটাকে বিরক্তির স্থায়ী সদস্য বানানো যায়।

অহংকারে মাটিতে পা পড়ে না যাদের, তাদের সঙ্গে কথা বলতে সিঁড়ি লাগে।

আমি সোজা কথা বলি বলে কারও সমস্যা হলে, তার জন্য আলাদা অনুবাদক রাখার ইচ্ছা নেই।

অযথা নাক গলানো মানুষ আমার অপছন্দ, নিজের জীবন সামলাতে না পেরে অন্যেরটা চালাতে আসে।

অপছন্দের মানুষকে ঘৃণা করার দরকার নেই, দূরত্ব রাখলেই মানসিক শান্তি বেঁচে যায়।

সামনে এক রূপ, পেছনে আরেক রূপ, এমন মানুষ দেখলে মনে হয় অভিনয়ের স্কুল খুলেছে।

আমার অপছন্দের কাজ করতে বলো না, আমার ধৈর্য আছে, তবে সীমাহীন ইন্টারনেট প্যাকেজ নয়।

যে মানুষ নিজের ভুল মানে না, তার সঙ্গে তর্ক করা মানে দেয়ালের কাছে আবেদন করা।

অতিরিক্ত চালাকি আমার ভালো লাগে না, কারণ চালাকির বাজারে আমিও একেবারে নতুন নই।

অন্যের জীবন নিয়ে সমালোচনা করার আগে নিজের গল্পের ভুলগুলো একটু ঠিক করো।

আমি সবাইকে পছন্দ করি না, কারণ আমার মন কোনো সরকারি প্রকল্প নয়।

অপছন্দের পরিবেশ থেকে সরে আসি, কারণ বিনা বেতনে মানসিক চাপ নেওয়ার শখ নেই।

আমার অপছন্দকে সম্মান করতে না পারলে সমস্যা নেই, তবে আমাকে বদলানোর দায়িত্বও তোমার নয়।

অপবাদ নিয়ে ক্যাপশন

আমার নামে গল্প বানিয়ে লাভ নেই, লেখক তুমি হলেও চরিত্রটা আমার নিজের হাতে গড়া।

অপবাদ ছড়াতে সময় লাগে না, কিন্তু সত্যি সামনে এলে অনেকের মুখে তালা পড়ে যায়।

আমার নামে কী বলছ, বলো; তবে গল্পে একটু নতুনত্ব রেখো, পুরোনো কাহিনি শুনতে ভালো লাগে না।

অপবাদ দিয়ে আমাকে ছোট করতে এসো না, তোমার কথায় আমার উচ্চতা মাপা যায় না।

মানুষের মুখ বন্ধ করতে পারব না, তবে নিজের কাজ দিয়ে তাদের কথার জবাব দিতে পারব।

মিথ্যা অপবাদ শুনে রাগ করি না, মাঝে মাঝে ভাবি, আমাকে নিয়ে মানুষের সময় এত বেশি কীভাবে!

আমার নামে গুজব ছড়ানোর আগে প্রমাণ জোগাড় করো, গল্পের বাজারে সবাই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

যারা সামনে ভালোবাসা দেখায়, পেছনে অপবাদ দেয়, তাদের অভিনয়ে হাততালি দিতে ইচ্ছে করে।

আমার চরিত্র নিয়ে আলোচনা চলছে, অথচ আলোচনার অনুমতিটুকু কেউ নিল না।

মিথ্যা কথা দিয়ে সাময়িক জয় পাওয়া যায়, কিন্তু সত্যের কাছে শেষ পর্যন্ত হিসাব দিতেই হয়।

অপবাদ শুনে চুপ থাকি বলে ভাবো না কিছু জানি না, সব কথার উত্তর দেওয়ার দরকার পড়ে না।

আমার ভুল থাকলে বলো, কিন্তু মিথ্যা বানিয়ে বললে নিজের সম্মানটাই কমবে।

কারও চোখে খারাপ হলেই আমি খারাপ হয়ে যাই না, মানুষের বিচার সব সময় ঠিক হয় না।

অপবাদ দেওয়ার আগে নিজের আয়নাটা মুছে নিয়ো, দাগটা কোথায় আছে বুঝতে সুবিধা হবে।

আমার নামে মিথ্যা ছড়ানো সহজ, কিন্তু সেই মিথ্যার ভার নিয়ে বাঁচা এত সহজ নয়।

মানুষ আমাকে নিয়ে কী ভাবল, তা নিয়ে সারাদিন বসে থাকলে নিজের জীবনটাই পিছিয়ে যাবে।

অপবাদ দিয়ে সম্পর্ক ভাঙা যায়, কিন্তু সত্যিকারের মানুষের বিশ্বাস এত সহজে ভাঙে না।

মিথ্যা গল্পের নায়ক হতে চাই না, নিজের বাস্তব জীবনের মানুষ হয়েই ভালো আছি।

আমার নীরবতাকে স্বীকারোক্তি ভেবো না, কখনো কখনো চুপ থাকাই সবচেয়ে সুন্দর উত্তর।

অপবাদকারীর মুখে আমার নাম থাকতেই পারে, তবে আমার জীবনের সিদ্ধান্তে তার কোনো জায়গা নেই।

নিজের পছন্দ নিয়ে ক্যাপশন

আমি নিজের মতো থাকতে ভালোবাসি, অন্যের পছন্দের ছাঁচে ঢুকলে নিজের রংটাই হারিয়ে ফেলব।

আমার পছন্দ একটু অদ্ভুত, তবে অন্তত ধার করা নয়, পুরোপুরি নিজের।

লোক কী বলবে, তা ভাবতে ভাবতে জীবন শেষ হলে নিজের ভালো লাগাগুলো উপোসেই মরবে।

আমার সুখের জন্য রাজপ্রাসাদ লাগে না, শান্ত একটা ঘর আর পছন্দের মানুষ হলেই চলে।

নিজের পছন্দে চলি বলে সবাই বুঝবে না, আর সবাইকে বোঝানো আমার চাকরি নয়।

আমার জীবন, আমার পছন্দ, আমার সিদ্ধান্ত; ভুল হলে শিক্ষা নেব, বিচারসভা বসাব না।

পছন্দের গান শুনে একা হাসি, মানুষ ভাবে পাগল; আমি ভাবি, আহা কী সুন্দর জীবন!

অন্যের চোখে আমি অদ্ভুত হতে পারি, নিজের চোখে অন্তত নকল মানুষ নই।

নিজের পছন্দের খাবার সামনে এলে ডায়েটের কথা মনে পড়ে, কিন্তু মন তখন ছুটিতে থাকে।

আমার পছন্দের জগতে সবাইকে ঢুকতে দিই না, কারণ বিনা দাওয়াতে ভিড় আমার ভালো লাগে না।

আমি কমেই খুশি, তবে পছন্দের জিনিসে ছাড় দিতে বললে হিসাবটা আবার করতে হবে।

নিজের মতো করে বাঁচার মজাই আলাদা, এখানে কারও অনুমতির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না।

আমার পছন্দের পোশাক, পছন্দের গান আর নিজের মতো সময়, সুখের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট।

সবাই যখন একদিকে ছোটে, আমি নিজের ভালো লাগার পথে হাঁটি, রাস্তা ফাঁকা থাকে অন্তত।

নিজের পছন্দকে ছোট করে দেখার দিন শেষ, এখন থেকে নিজের সুখেরও একটু দাম আছে।

আমার রুচি সবার সঙ্গে মিলবে না, কারণ আমি কোনো গণভোটে নির্বাচিত হতে আসিনি।

নিজের পছন্দের মানুষদের সময় দিই, কারণ সবার সঙ্গে হাসলেও সবার কাছে মন খোলে না।

আমি একটু জেদি, একটু এলোমেলো, তবে নিজের পছন্দের ব্যাপারে বেশ দায়িত্বশীল।

আমার সুখের তালিকা ছোট, কিন্তু সেখানে যা আছে, সেগুলো হারাতে চাই না।

নিজের পছন্দে শান্তি পাই, তাই অন্যের অনুমোদন ছাড়াই জীবনটা উপভোগ করি।

পছন্দের মানুষের জন্য চিঠি

চিঠি: তোমাকে ভালো লাগার ছোট্ট কারণ

প্রিয়,

তোমাকে কেন ভালো লাগে, সেটা যদি কেউ জিজ্ঞেস করে, আমি হয়তো গুছিয়ে কিছুই বলতে পারব না। তোমার মধ্যে এমন কোনো জাদু আছে কি না জানি না, তবে তোমার সঙ্গে কথা বললে মনটা একটু হালকা হয়ে যায়।

সারাদিন কত মানুষের সঙ্গে কথা হয়, কত হাসি, কত গল্প। অথচ দিনের শেষে তোমার একটা মেসেজের জন্যই মনটা কেমন অপেক্ষা করে। তুমি ব্যস্ত থাকলে বুঝি, তবু ফোনটা বারবার হাতে নিই। নিজেকেই তখন বোকা লাগে।

তোমার কাছে খুব বেশি কিছু চাই না। শুধু চাই, আমার সঙ্গে কথা বলার সময় তুমি নিজের মতো থেকো। মন খারাপ হলে বলো, রাগ হলে সেটাও বলো। সব সময় ভালো থাকার অভিনয় করতে হবে না।

আমি তোমাকে নিখুঁত বলে পছন্দ করি না। তোমার ছোট ছোট অভ্যাস, রাগ, অভিমান, হাসি, এমনকি মাঝেমধ্যে তোমার অকারণ জেদটাও আমার ভালো লাগে।

কখনো যদি মনে হয় পৃথিবীর কেউ তোমাকে বুঝছে না, আমাকে একবার মনে কোরো। সব সমস্যার সমাধান দিতে পারব না হয়তো, কিন্তু তোমার কথা মন দিয়ে শুনব।

ইতি, তোমার ভালো লাগার মানুষ হতে চাওয়া একজন।

চিঠি: তোমাকে নিয়ে আমার ছোট্ট স্বপ্ন

প্রিয় মানুষ,

তোমাকে নিয়ে আমার স্বপ্নগুলো খুব সাধারণ। দামি রেস্তোরাঁয় খাওয়া কিংবা দূরের কোনো দেশে ঘুরতে যাওয়া নয়, আমার স্বপ্ন হলো একদিন তোমার পাশে বসে এক কাপ চা খাওয়া।

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে তুমি গল্প করবে, আমি শুনব। মাঝেমধ্যে তোমার কথার মাঝখানে মজা করে বিরক্ত করব, আর তুমি রাগ দেখিয়ে আবার নিজেই হেসে ফেলবে। দিনটা হয়তো খুব সাধারণ হবে, কিন্তু আমার কাছে সেই সাধারণ দিনটাই অনেক দামি।

আমি জানি, শুধু ভালো লাগা দিয়ে একটা সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা যায় না। সেখানে বিশ্বাস লাগে, ধৈর্য লাগে, ভুল বোঝাবুঝির পর আবার কথা বলার ইচ্ছা লাগে।

আমি চাই না তুমি আমার জন্য নিজের সবকিছু বদলে ফেলো। বরং তুমি তোমার মতো থেকো, আমিও আমার মতো থাকি। শুধু মাঝখানের দূরত্বটা যেন কখনো এতটা না বাড়ে যে আমরা দুজন দুজনের মনের খবর নেওয়াটাই ভুলে যাই।

কোনো দিন যদি আমাদের সময় খারাপ যায়, সেদিন যেন আমরা একে অন্যকে ছেড়ে যাওয়ার কথা না ভেবে সমস্যাটা মেটানোর চেষ্টা করি।

তোমাকে নিয়ে আমার স্বপ্নের শেষ নেই, তবে সব স্বপ্নের মাঝখানে একটা কথাই সবচেয়ে বড়। তোমার পাশে থেকে তোমার জীবনের আপন মানুষ হয়ে উঠতে চাই।

ইতি, তোমার সঙ্গে এক কাপ চায়ের গল্প জমাতে চাওয়া মানুষটি।

চিঠি: অভিমান জমে গেলে

প্রিয়,

তোমার ওপর অভিমান হলে আমি সব সময় সেটা ঠিকমতো বলতে পারি না। কখনো চুপ করে থাকি, কখনো অল্প কথায় উত্তর দিই। বাইরে থেকে হয়তো মনে হয়, আমার কিছু যায় আসে না। অথচ ভেতরে ভেতরে তোমার বলা ছোট্ট একটা কথাও বারবার মনে পড়ে।

আমি চাই না তুমি আমার মনের সব কথা না বলতেই বুঝে ফেলো। আমি এটাও জানি, তুমি আমার মনের খবর পড়তে পারবে না। শুধু চাই, আমার আচরণে কিছু বদল দেখলে একবার জিজ্ঞেস কোরো, কী হয়েছে?

আমি রাগ করলে আমাকে একটু সময় দিয়ো, তবে একেবারে দূরে সরে যেয়ো না। কখনো কখনো মানুষের রাগের চেয়ে তার অভিমানটা অনেক বেশি নরম হয়। একটু যত্ন পেলে সেটাও গলে যায়।

আমারও ভুল হবে, তোমারও হবে। আমরা দুজনই মানুষ, কেউ কারও কাছে নিখুঁত হওয়ার চুক্তি করে আসিনি। তবে ভুল হলে সেটা স্বীকার করার সাহস যেন আমাদের থাকে।

তোমাকে হারানোর ভয় দেখিয়ে ভালোবাসা আদায় করতে চাই না। শুধু চাই, আমাদের সম্পর্কটা এমন হোক যেখানে কষ্ট পেলে মুখ খুলতে পারব, আর ভুল বুঝলে আবার কাছে আসতে পারব।

ভালোবাসা মানে সব সময় একমত হওয়া নয়। কখনো কখনো মতের অমিলের মাঝেও একে অন্যের হাতটা ধরে রাখার নামই ভালোবাসা।

ইতি, অভিমান করেও তোমাকেই খোঁজে যে।

চিঠি: দূরে থেকেও তুমি আপন

প্রিয়,

তোমাকে কাছে না পেলেও তোমার কথা মনে পড়ার জন্য কোনো বিশেষ সময় লাগে না। রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে, চায়ের দোকানে বসে, কিংবা রাতে ঘুমানোর আগে হঠাৎ করেই তোমার কথা মনে পড়ে যায়।

মাঝেমধ্যে ইচ্ছে করে, দিনের ছোট ছোট ঘটনাগুলো তোমাকে বলি। আজ কী খেয়েছি, কার সঙ্গে দেখা হয়েছে, কোন কথায় হেসেছি, আর কোন ঘটনায় মনটা খারাপ হয়েছে। খুব বড় কোনো ঘটনা নয়, তবু তোমাকে বলতে ইচ্ছে করে।

হয়তো এটাই কাউকে আপন ভাবার সবচেয়ে সুন্দর দিক। তার সঙ্গে কথা বলার জন্য সব সময় নতুন গল্প খুঁজতে হয় না। পুরোনো গল্পও বারবার বলতে ইচ্ছে করে।

দূরত্ব আমাদের মাঝখানে কতটা পথ রেখেছে, সেটা আমি জানি না। তবে চাই, এই দূরত্ব যেন আমাদের মনের মধ্যে দেয়াল তুলে না দেয়।

আমি তোমার প্রতিটি মুহূর্তের অংশ হতে চাই না, তোমার নিজের সময়ও থাকুক। শুধু চাই, ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা যেন একে অন্যের কথা ভুলে না যাই।

কোনো দিন দেখা হলে হয়তো অনেক কথা বলার পরিকল্পনা থাকবে। অথচ তোমাকে সামনে পেলে সব কথা ভুলে গিয়ে শুধু হাসব। তুমি হয়তো বলবে, এত কথা জমিয়ে রেখে এখন চুপ কেন?

সেদিন তোমাকে বলব, কিছু অনুভূতি দূরে থাকতেই জমে, আর কাছে এলে চোখের হাসিতে প্রকাশ পায়।

ইতি, দূরত্বের ওপার থেকেও তোমাকে আপন ভাবা একজন।

চিঠি: তুমি থাকলে জীবনটা অন্যরকম

প্রিয়তম,

জীবন সব সময় নিজের ইচ্ছামতো চলে না। কোনো দিন সব ঠিকঠাক থাকে, আবার কোনো দিন ছোট ছোট সমস্যাও পাহাড়ের মতো মনে হয়। এমন দিনে তোমার সঙ্গে একটু কথা বলতে পারলে আমার ভেতরের অস্থিরতা অনেকটাই কমে যায়।

তুমি আমার সব সমস্যার সমাধান নও, আর তোমার ওপর আমার সব দায়িত্ব চাপিয়ে দিতেও চাই না। কিন্তু তোমার পাশে থাকলে মনে হয়, সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সাহসটা একটু বেড়ে গেছে।

আমি চাই, তুমি আমার ভালো সময়ের সঙ্গী হওয়ার পাশাপাশি খারাপ সময়েও আপন হয়ে থেকো। সব সময় আমাকে সান্ত্বনা দিতে হবে না। কখনো শুধু পাশে বসে থাকলেও চলবে।

আমিও তোমার জীবনে এমন একজন হতে চাই, যার কাছে এসে তোমাকে শক্ত থাকার অভিনয় করতে হবে না। মন খারাপ হলে মন খারাপের কথাই বলবে, ক্লান্ত হলে বিশ্রাম নেবে, আর কোনো কিছু ভালো না লাগলে সেটা নির্দ্বিধায় জানাবে।

আমাদের সম্পর্কটা যেন শুধু সুন্দর সুন্দর কথায় আটকে না থাকে। সেখানে যত্ন থাকুক, সম্মান থাকুক, একে অন্যের সীমাবদ্ধতা বোঝার চেষ্টা থাকুক।

ভবিষ্যতে কী হবে, তার সব উত্তর আমার জানা নেই। তবে আজ তোমাকে ভালো লাগে, তোমার সঙ্গে কথা বলতে ভালো লাগে, তোমার সুখের কথা ভাবতে ভালো লাগে।

আগামী দিনগুলোতেও যদি আমরা একে অন্যের প্রতি এই আন্তরিকতাটুকু ধরে রাখতে পারি, তাহলে সেটাই আমার কাছে অনেক বড় পাওয়া হবে।

ইতি, তোমার সঙ্গে সুন্দর কিছু দিন গড়ে তুলতে চাওয়া মানুষটি।

শেষ কথা :

পছন্দের মাঝে মনের কথা,
ভালোবাসায় স্বপ্ন গাঁথা।
কিছু অনুভূতি রয় অজানা,
কিছু মানুষ ভীষণ চেনা।

মনের কথায় সাজুক ক্ষণ,
ভালো থাকুক প্রিয়জন।
আরও পড়ো হাত নিয়ে ছন্দ,
উক্তি, মেসেজ ও কবিতা
,

যেখানে ভালোবাসা খুঁজে পাবে
কিছু মায়াভরা নতুন কথা।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *