ঈমান নিয়ে উক্তি, স্ট্যাটাস ও ক্যাপশন
আঁধার রাতে পথ চলতে যেমন আলোর প্রয়োজন, তেমনি জীবনের কঠিন মুহূর্তে সঠিক পথে টিকে থাকতে প্রয়োজন মজবুত ঈমান। দুনিয়ার চাকচিক্য ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু অন্তরের বিশ্বাসই মুমিনের আসল সম্বল যা তাকে পরকালের মুক্তির পথে নিয়ে যায়। আপনার মনের ভাব প্রকাশ করতে নিচে সাজানো হলো ঈমান নিয়ে উক্তি, স্ট্যাটাস এবং ক্যাপশনের সেরা কালেকশন।
ঈমান নিয়ে সেরা স্ট্যাটাস
জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং তাঁর বিধান মেনে চলাই একজন মুমিনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার জন্য অর্থপূর্ণ ঈমান নিয়ে স্ট্যাটাস খুঁজে থাকেন, তবে নিচের সংগ্রহটি আপনার টাইমলাইনের শোভা বাড়াবে।
মুখে আল্লাহকে ভালোবাসি বলা সহজ, কিন্তু তাহাজ্জুদের জায়নামাজে দাঁড়িয়ে সেই ভালোবাসার প্রমাণ দেওয়াটাই আসল পরীক্ষা।
দুনিয়ার সব হারিয়ে ফেললেও যদি বুকে ঈমান থাকে, তবে মনে রাখবেন আপনিই পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি।
ভরসা রাখুন তাঁর ওপর যিনি আপনাকে সৃষ্টি করেছেন, কারণ তিনি কখনোই তাঁর বান্দাকে খালি হাতে ফেরান না।
অন্তরে যদি ঈমানের আলো থাকে, তবে দুনিয়ার কোনো অন্ধকারই আপনাকে হতাশ করতে পারবে না।
পাপ করে লজ্জিত হওয়াটাও ঈমানের একটা অংশ, কারণ মৃত অন্তরে কখনো অনুশোচনা জাগে না।
সৌন্দর্য একদিন ফিকে হয়ে যাবে, কিন্তু ঈমানের নূর কবরের অন্ধকারকেও আলোকিত করে রাখবে।
মুমিনের হাতিয়ার হলো দোয়া, যা অসম্ভবকেও সম্ভবে রূপান্তর করার ক্ষমতা রাখে।
আল্লাহ যা দিয়েছেন তাতেই সন্তুষ্ট থাকা হলো ঈমানের অন্যতম বড় পরীক্ষা ও প্রশান্তি।
বিপদ যখন চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে, তখন মুচকি হেসে বলুন— আমার আল্লাহ আছেন, তিনি সব জানেন।
প্রকৃত মুমিন তো সে-ই, যার চরিত্র দেখে অন্যরাও ইসলামের প্রেমে পড়ে যায়।
ঈমান নিয়ে ক্যাপশন
বিশ্বাস যখন রবের ওপর থাকে, তখন পৃথিবীর কোনো ঝড়ই মুমিনের মনকে টলাতে পারে না; অন্তরের প্রশান্তি তো আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়ার মধ্যেই নিহিত।
অন্ধকারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়েও যিনি আলো দেখার সাহস রাখেন, তিনিই প্রকৃত ঈমানদার; কারণ তিনি জানেন, রব কখনোই তাঁর বান্দাকে নিরাশ করেন না।
পাখির ভরসা যেমন ডালের ওপর নয়, ডানার ওপর থাকে; ঠিক তেমনি মুমিনের ভরসা পরিস্থিতির ওপর নয়, মহান আল্লাহর পরিকল্পনার ওপর থাকে।
দুনিয়ার চাকচিক্য হয়তো চোখ ধাঁধিয়ে দিতে পারে, কিন্তু কবরের অন্ধকার দূর করতে প্রয়োজন কেবল ঈমানের আলো।
কপালে সিজদার দাগ থাকলেই মুমিন হওয়া যায় না, প্রকৃত মুমিন তো সেই যার হৃদয়ে রবের ভয় আর মুখে সততা সবসময় অটুট থাকে।
পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক না কেন, ‘আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন’—এই বিশ্বাসটুকু হৃদয়ে ধারণ করার নামই হলো মজবুত ঈমান।
নিঃশ্বাসের কোনো বিশ্বাস নেই, যেকোনো মুহূর্তে থেমে যেতে পারে; কিন্তু রবের ওয়াদার ওপর বিশ্বাস রাখা প্রতিটি মুমিনের জন্য ফরজ।
ঈমান তো সেটাই, যা মানুষকে একাকীত্বেও পাপ কাজ থেকে বিরত রাখে এবং ভিড়ের মাঝেও রবের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
চোখের পানি ফেলে রবের কাছে চাওয়া দোয়াগুলো কখনোই বিফলে যায় না; হয়তো দেরিতে কবুল হয়, নতুবা তার চেয়ে উত্তম কিছু অপেক্ষা করে।
জীবন মানেই পরীক্ষা, আর এই পরীক্ষার হলে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে রবের সাহায্য চাওয়াই হলো সফলতার একমাত্র চাবিকাঠি।
ঈমানী শক্তি নিয়ে উক্তি ও ধৈর্য
বিপদ-আপদে হতাশ না হয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের ওপর অবিচল থাকাই ঈমানের পরীক্ষা। যারা ঈমানী শক্তি নিয়ে উক্তি খুঁজছেন, তাদের জন্য ধৈর্যশীলদের মনের খোরাক হিসেবে এই কথাগুলো অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সবর করা কঠিন হতে পারে, কিন্তু মনে রাখবেন এর প্রতিদান হিসেবে জান্নাত অনেক মধুর।
আল্লাহ যাকে যত বেশি ভালোবাসেন, তাকে তত বেশি পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করে নেন।
ধৈর্যের বাঁধ যখন ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন মনে করবেন আল্লাহ নিশ্চয়ই উত্তম কিছু আপনার জন্য জমা রেখেছেন।
ঝিনুক যেমন বালুকণা বুকে নিয়ে মুক্তা তৈরি করে, মুমিনও তেমনি কষ্ট বুকে চেপে জান্নাতের স্বপ্ন দেখে।
পৃথিবীর আদালতের বিচার ভুল হতে পারে, কিন্তু হাশরের ময়দানে আল্লাহর বিচার হবে নিখুঁত ও চূড়ান্ত।
কান্নাগুলো মানুষের কাছে প্রকাশ না করে জায়নামাজে আল্লাহর কাছে বলুন, তিনি সব সমস্যার সমাধানকারী।
কঠিন সময়ে হতাশ হবেন না, কারণ সূর্য ডোবার পরেই নতুন ভোরের আলো ফোটে।
অভিযোগ না করে আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়াই হলো শক্তিশালী ঈমানের পরিচয়।
আপনার আজকের এই ধৈর্য ও কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা কাল হাশরের মাঠে আপনার নাজাতের উসিলা হবে।
রব যখন কোনো কিছু কেড়ে নেন, তখন বুঝতে হবে তিনি এর চেয়েও উত্তম কিছু দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঈমান নিয়ে ক্যাপশন
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বা ভিডিওর সাথে দেওয়ার জন্য আবেগঘন ও ইসলামিক ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ কিছু লেখা প্রয়োজন হয়। নিচে বাছাইকৃত সেরা ঈমান নিয়ে ক্যাপশন দেওয়া হলো যা আপনার প্রোফাইলকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।
দুনিয়া কামানো খুব সহজ, কিন্তু আখেরাত সাজানোই হলো আসল বুদ্ধিমত্তার পরিচয়।
জায়নামাজে ফেলা চোখের পানি কখনো বিফলে যায় না, তা সরাসরি আরশে আজিম পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
পৃথিবীর কোথাও প্রকৃত শান্তি নেই, শান্তি কেবল আল্লাহর জিকির ও সেজদাতেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও আমরা দুনিয়ার পেছনে ছুটছি, অথচ প্রস্তুতিটা হওয়া উচিত ছিল অনন্তকালের যাত্রার।
কুরআন ধুলোমাখা তাকে সাজিয়ে রাখার জন্য নয়, বরং বুকে ধারণ করে জীবন গড়ার জন্য নাজিল হয়েছে।
মানুষের প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা মুমিনের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত।
একদিন নাম ধরে ডাকার মতো কেউ থাকবে না, সেদিন কেবল আপনার নেক আমলই সঙ্গী হবে।
সেজদাতে মাথা নত করা শিখুন, দেখবেন দুনিয়ার কোনো শক্তির কাছে আর মাথা নত করতে হবে না।
দ্বীন পালন করা হয়তো আধুনিক সমাজের চোখে ‘ব্যাকডেটেড’, কিন্তু আল্লাহর কাছে এটাই সর্বোচ্চ স্মার্টনেস।
জান্নাতের পথটা ফুলের বিছানা নয়, বরং কাঁটার আঘাত সহ্য করেই সেখানে পৌঁছাতে হয়।
ছোট ও পাওয়ারফুল ঈমানী স্ট্যাটাস
খুব অল্প কথায় গভীর ভাব প্রকাশ করতে যারা পছন্দ করেন, তাদের জন্য এই ছোট ঈমান নিয়ে স্ট্যাটাস গুলো একদম পারফেক্ট।
নিরাশ হবেন না, কারণ আল্লাহর রহমত আমাদের পাপের চেয়েও বিশাল।
সঠিক পথের দিশা কেবল কুরআন ও সুন্নাহর মাঝেই খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
নামাজ হলো জান্নাতের চাবি, আর ঈমান হলো সেই চাবির দাঁত।
যার অন্তরে আল্লাহর ভয় আছে, তাকে দুনিয়ার কোনো ভয় কাবু করতে পারে না।
দুনিয়া হলো মুমিনের জন্য কারাগার আর কাফেরের জন্য জান্নাত।
নিঃশ্বাস আছে যতক্ষণ, তওবা করার সুযোগ আছে ততক্ষণ।
আজান শোনার পর যার অন্তর কাঁপে না, তার ঈমান চেক করা জরুরি।
সফল তো সে-ই, যে জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারল।
ভাগ্যলিপি বদলানো যায় না, কিন্তু দোয়া দিয়ে ভাগ্যকেও পরিবর্তন করা সম্ভব।
আল্লাহকে না দেখে বিশ্বাস করাই হলো আমাদের ঈমানের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য।
যুব সমাজের জন্য ঈমানী বার্তা
বর্তমান তরুণ প্রজন্মের জন্য ঈমান ধরে রাখা এক বড় চ্যালেঞ্জ। যুবকদের মাঝে ঈমানী শক্তি নিয়ে উক্তি ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের অনুপ্রাণিত করতে কিছু বিশেষ বার্তা নিচে দেওয়া হলো।
যৌবনের ইবাদত আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়, তাই এই সময়টাকে অবহেলায় নষ্ট করবেন না।
ভাইরাল হওয়ার চেয়ে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হওয়ার চেষ্টা করুন, লাভটা পরকালেই পাবেন।
হারাম রিলেশনশিপের ক্ষণস্থায়ী সুখের চেয়ে হালাল সম্পর্কের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি হাজার গুণ ভালো।
মিউজিক আপনাকে সাময়িক আনন্দ দেবে, কিন্তু কুরআন আপনার আত্মাকে প্রশান্ত করবে।
বন্ধুদের আড্ডায় দ্বীনের কথা বলাটা লজ্জার নয়, বরং গর্বের বিষয়।
চোখের পর্দা কেবল নারীদের জন্য নয়, পুরুষদের জন্যও দৃষ্টি সংযত রাখা ঈমানের দাবি।
স্মার্টফোন আপনাকে জান্নাত থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে কি না, তা একবার ভেবে দেখবেন।
ফ্যাশনের দোহাই দিয়ে নিজের শালীনতা বিসর্জন দেওয়া কোনো আধুনিকতা নয়।
ফজরের নামাজে উঠতে না পারাটা শরীরের দুর্বলতা নয়, এটা ঈমানের দুর্বলতা।
দুনিয়ার কোনো সেলিব্রেটি আপনার আইডল হতে পারে না, আমাদের একমাত্র আইডল হযরত মুহাম্মদ (সা.)।
আল-কুরআনের আলোকে ঈমানী শক্তি
হতাশার ঘোর অমানিশায় যখন সবকিছু অর্থহীন মনে হয়, তখন একমাত্র ঈমানী শক্তি নিয়ে উক্তি ও কুরআনের আয়াত মুমিনের হৃদয়ে জ্বালাতে পারে আশার আলো। আল্লাহ তাআলার প্রতি অবিচল আস্থা মানুষকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে যায়, যেখানে দুনিয়ার কোনো কষ্টই তাকে পরাস্ত করতে পারে না।
আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না। যদি তোমরা মুমিন হও তবে তোমরাই জয়ী হবে। (সূরা আল-ইমরান: ১৩৯)
আল্লাহ কোনো মানুষের ওপর তার সাধ্যের বাইরে কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন না। (সূরা বাকারা: ২৮৬)
যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবকে ভয় করেছে, তাদের জন্য রয়েছে সুসংবাদ পার্থিব জীবনে এবং পরকালেও। (সূরা ইউনুস: ৬৩-৬৪)
নিঃসন্দেহে কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে। (সূরা আল-ইনশিরাহ: ৬)
বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। আমি তাঁর ওপরই ভরসা করি এবং তিনিই মহান আরশের রব। (সূরা আত-তাওবা: ১২৯)
আর যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। (সূরা আত-তালাক: ৩)
তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। (সূরা গাফির: ৬০)
নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত থেকে কেবল কাফের সম্প্রদায়ই নিরাশ হয়। (সূরা ইউসুফ: ৮৭)
তিনি তোমাদের সাথে আছেন, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন। আর তোমরা যা করো, আল্লাহ তা দেখেন। (সূরা আল-হাদিদ: ৪)
যারা ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে, দয়াময় আল্লাহ তাদের জন্য (মানুষের হৃদয়ে) ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেবেন। (সূরা মারইয়াম: ৯৬)
হাদিসের আলোকে ঈমানের গুরুত্ব
রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র বাণী আমাদের ঈমানকে শাণিত করে। নিচে ঈমান সম্পর্কে হাদিস এর একটি সংকলন দেওয়া হলো যা সঠিক পথে চলার প্রেরণা যোগায়।
মুমিনের বিষয়টা কতই না চমৎকার! তার প্রতিটি কাজই কল্যাণকর। আর এটা মুমিন ছাড়া অন্য কারো ভাগ্যে জোটে না। যদি সে সুখ-শান্তি লাভ করে তবে শুকরিয়া আদায় করে, যা তার জন্য কল্যাণকর। আর যদি সে দুঃখ-কষ্টে পতিত হয় তবে ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর। (সহীহ মুসলিম)
যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট থাকে রব হিসেবে, ইসলামের ওপর সন্তুষ্ট থাকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর সন্তুষ্ট থাকে নবী হিসেবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। (সুনানে আবু দাউদ)
তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, সন্তান এবং সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় হবো। (সহীহ বুখারী)
শক্তিশালী মুমিন আল্লাহর কাছে দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং বেশি প্রিয়। (সহীহ মুসলিম)
লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষ শাখা। (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। (সহীহ মুসলিম)
পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। (সহীহ মুসলিম)
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি এবং শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (সহীহ বুখারী)
দুনিয়া মুমিনের জন্য জেলখানা আর কাফেরের জন্য জান্নাত। (সহীহ মুসলিম)
যার শেষ কথা হবে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সুনানে আবু দাউদ)
বিখ্যাত মনিষীদের ঈমান নিয়ে উক্তি
যুগে যুগে বিখ্যাত সাহাবী এবং ইসলামিক স্কলারগণ ঈমান ও আমল নিয়ে অনেক মূল্যবান কথা বলেছেন। ঈমান নিয়ে উক্তি সমূহের মধ্যে মনিষীদের এই বাণীগুলো আমাদের আত্মার খোরাক যোগায়।
আমরা এমন এক জাতি যাদের আল্লাহ ইসলাম দ্বারা সম্মানিত করেছেন। আমরা যদি ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো কিছুতে সম্মান খুঁজি, তবে আল্লাহ আমাদের লাঞ্ছিত করবেন। — উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)
দুঃখ বা দুশ্চিন্তা করো না, কারণ ঈমানের স্বাদ ধৈর্যের মধ্যেই নিহিত থাকে। — ইবনে কায়্যিম (রহ.)
হৃদয়ের প্রশান্তি কেবল আল্লাহর জিকিরেই পাওয়া যায়, দুনিয়ার কোনো ঐশ্বর্যে নয়। — ইমাম গাজ্জালি (রহ.)
দুনিয়ার মানুষ যদি তোমাকে ছেড়ে চলে যায়, তবুও নিরাশ হয়ো না। মনে রেখো, আল্লাহ সর্বদাই তোমার সাথে আছেন। — আল্লামা ইকবাল
ঈমান হলো এমন এক আলো যা কখনো নেভে না, আর আশা হলো এমন এক সঙ্গী যা কখনো পথ হারায় না। — হাসান আল-বাসরী (রহ.)
জিহ্বা দিয়ে মিথ্যা বলা আর অন্তর দিয়ে সত্য বিশ্বাস করা—এ দুটি কখনো একসাথে থাকতে পারে না। — ইমাম আলী (রা.)
যদি তোমার ঈমান মজবুত হয়, তবে দুনিয়ার কোনো ঝড়ই তোমাকে টলাতে পারবে না। — আব্দুল কাদের জিলানী (রহ.)
সবর বা ধৈর্য হলো এমন এক সওয়ারী, যা কখনো হোঁচট খায় না। — উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)
আল্লাহর ভয়ে যে চোখ কাঁদে, সেই চোখ জাহান্নামের আগুন দেখবে না। — ইবনে তাইমিয়া (রহ.)
যে ব্যক্তি নিজের নফসকে চিনতে পেরেছে, সে তার রবকে চিনতে পেরেছে। — ইমাম আলী (রা.)
হৃদয় স্পর্শী ঈমানী স্ট্যাটাস
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করার মতো আরও কিছু আবেগঘন এবং প্রেরণাদায়ী ঈমান নিয়ে স্ট্যাটাস নিচে দেওয়া হলো যা পাঠকের মনে দাগ কাটবে।
জীবনের কঠিন মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করা হলো ঈমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা, আর রবের ওপর ভরসা রাখা হলো সেই পরীক্ষায় জয়ের একমাত্র চাবিকাঠি।
সিজদায় লুটিয়ে পড়া মাথাটা যখন রবের কাছে কিছু চায়, তখন আসমানের মালিক খালি হাতে কাউকে ফিরিয়ে দেন না।
আজকের এই কঠিন সময়টা হয়তো আপনাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে, কিন্তু বিশ্বাস রাখুন, আল্লাহ আপনাকে নতুন করে গড়ার জন্যই এই পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন।
মুচকি হেসে সব কষ্ট উড়িয়ে দেওয়া মানুষেরাই জানে, আল্লাহর ওপর ভরসা করার শক্তি কতটা প্রবল।
বুকের ভেতর যখন কষ্টের পাহাড় জমে, তখন জায়নামাজে বসে রবের সাথে কথা বলা হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় থেরাপি।
প্রকৃত মুমিন তো সে, যে বিপদে পড়লে মানুষের কাছে হাত না পেতে রবের কাছে দুহাত তুলে কাঁদে।
ভাগ্য নিয়ে অভিযোগ না করে রবের ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকাই হলো ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর।
দুনিয়ার জৌলুস হয়তো আমাদের সাময়িক আনন্দ দিতে পারে, কিন্তু রুহের খোরাক কেবল আল্লাহর আনুগত্যেই পাওয়া যায়।
চোখের পানি ফেলার মতো জায়গা যদি জায়নামাজ হয়, তবে সেই পানি কখনোই বৃথা যায় না; তা জাহান্নামের আগুন নেভাতে যথেষ্ট।
রবের ওপর বিশ্বাস রাখা মানে হলো অন্ধের মতো ভরসা করা নয়, বরং আলো আসবে জেনেও অন্ধকারের মধ্যে ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা।
ঈমান সম্পর্কে হাদিস: মুমিনের পরিপূর্ণ রূপরেখা
বিশ্বাস বা ঈমান হলো মুমিনের হৃদয়ের সেই আলো, যা তাকে অন্ধকারের পথ থেকে সঠিক পথের দিশা দেয়। এখানে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঈমান সম্পর্কে হাদিস উল্লেখ করা হলো যা আমাদের শেখায় কীভাবে বিশ্বাসকে মজবুত করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হয়।
ঈমানের মূল ভিত্তি ও সংজ্ঞা
তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সব মানুষের চেয়ে বেশি প্রিয় না হই। (সহীহ বুখারী: ১৫)
তিনটি গুণ যার মধ্যে আছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে: আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তার কাছে অন্য সব কিছুর চেয়ে অধিক প্রিয় হওয়া; কাউকে ভালোবাসলে কেবল আল্লাহর জন্যই ভালোবাসা; এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতোই অপছন্দ করা। (সহীহ বুখারী: ১৬)
যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়, সে মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়। (সহীহ বুখারী: ৬০১৬)
তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তাই পছন্দ করবে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। (সহীহ বুখারী: ১৩)
যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। (সহীহ বুখারী: ৬১৩৮)
মুমিন কখনো অভিশাপকারী হয় না, অশ্লীলভাষী হয় না এবং সে কখনো গালিগালাজকারী ও নির্লজ্জ হয় না। (তিরমিজি: ১৯৭৭)
ঈমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। (সহীহ মুসলিম: ৩৫)
মুমিনের গুণাবলী ও ঈমানের পরীক্ষা
মুমিনের উদাহরণ হলো শস্যক্ষেতের নরম চারাগাছের মতো, বাতাস যেদিকে বয়, সেদিকেই হেলে পড়ে, আবার সোজা হয়ে দাঁড়ায়। (অর্থাৎ মুমিন বিপদে পড়লে ধৈর্য ধরে এবং বিপদ কেটে গেলে আবার আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হয়)। (সহীহ বুখারী: ৫৬৪৪)
অল্প আমলই তোমার জন্য নাজাতের বা মুক্তির জন্য যথেষ্ট হবে, যদি তোমার ঈমান খাঁটি হয়। (মুসতাদরাকে হাকেম: ৭৮৩৪)
মুমিন এক গর্তে দুইবার দংশিত হয় না। (সহীহ বুখারী: ৬১৩৩)
যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় কাজ হতে দেখে, সে যেন তা হাত দিয়ে প্রতিহত করে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে মুখ দিয়ে প্রতিবাদ করে। আর যদি তাও সম্ভব না হয়, তবে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে। আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর। (সহীহ মুসলিম: ৪৯)
যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ অহংকার থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে, সে জাহান্নামে (স্থায়ীভাবে) থাকবে না। (সহীহ মুসলিম: ৯১)
মুমিন সেই ব্যক্তি, যার থেকে মানুষের জান ও মাল নিরাপদ থাকে। (তিরমিজি: ২৬২৭)
আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাউকে ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই কাউকে ঘৃণা করা ঈমানের দৃঢ়তম বন্ধন। (আবু দাউদ: ৪৬৮১)
শেষ জামানা ও ঈমান রক্ষা
মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে, যখন দ্বীনের ওপর অটল থাকা জ্বলন্ত কয়লা হাতে রাখার মতো কঠিন হবে। (তিরমিজি: ২২৬০)
সকালবেলায় একজন মানুষ মুমিন থাকবে, কিন্তু সন্ধ্যাবেলায় সে কাফের হয়ে যাবে। আবার সন্ধ্যায় মুমিন থাকবে, কিন্তু সকালে কাফের হয়ে যাবে। মানুষ দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে নিজের দ্বীন বিক্রি করে দেবে। (সহীহ মুসলিম: ১১৮)
মুনাফিকের আলামত তিনটি: কথা বললে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে এবং আমানত রাখলে খেয়ানত করে। (সহীহ বুখারী: ৩৩)
যে ব্যক্তি আমাদের (মুসলিমদের) ধোঁকা দেয়, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (সহীহ মুসলিম: ১০১)
ঈমান ও হিংসা কোনো বান্দার অন্তরে একত্রে থাকতে পারে না। (নাসায়ী: ৩১০৯)
বান্দা যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায় এবং তা ছায়ার মতো তার মাথার ওপর অবস্থান করে। এরপর যখন সে ওই কাজ থেকে বিরত হয়, তখন ঈমান তার কাছে ফিরে আসে। (তিরমিজি: ২৬২৫)
তোমরা ধারণা বা অনুমান থেকে বেঁচে থাকো। কেননা ধারণা হলো সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা। (সহীহ বুখারী: ৬০৬৪)
সবচেয়ে পরিপূর্ণ ঈমানদার সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর এবং যে তার পরিবারের কাছে সবচেয়ে উত্তম। (তিরমিজি: ১১৬২)
কেয়ামতের দিন মিজানের পাল্লায় সচ্চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কিছুই হবে না। (আবু দাউদ: ৪৭৯৯)
